দ্বিতীয় পর্যায়ের শারদ সম্ভার নিয়ে আমরা হাজির। এবারে প্রথমে কবিতার পাতায় পাঁচ জন কবির কবিতা প্রকাশিত হল।
প্রথম যে কবির কবিতা প্রকাশিত হল তিনি সত্তর দশকের পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম স্বনামধন্য কবি দীপক রায়। বাকি যাঁদের কবিতা প্রকাশ হলো তাঁরাও সুপরিচিত। তাঁদের সেরা কবিতা আমাদের পাঠিয়েছিলেন।
তাই সেগুলো নির্বাচিত হলো।
পরবর্তীতে প্রবন্ধ, গল্প, আলোচনা ও সাম্প্রতিক লেখাগুচ্ছ আসতে চলেছে। আসতে চলেছে নিমন্ত্রিত কিছু লেখা।
সঙ্গে থাকুন।
১
বনভোজনের পর
শেষ হয়েছিল কোলাহল
কমে গিয়েছিল আলো
ফিরে গিয়েছিল সকলে
চলে গিয়েছিল শীত
ফিরে গিয়েছিল সকলেই ?
তোমাদের সব মনে আছে ?
হারিয়ে গিয়েছে সব কথা ?
তোমাদের সব মনে আছে ?
নিঃশব্দের কিছু তাপ
শীতের বাতাসে কেঁপেছিল
ভয়ে ভয়ে শুধু ভয়ে ভয়ে
শুধু ভয়ে ভয়ে
আর ভয়ে ভয়ে ভয়ে.......
২
ছেঁড়া শালপাতা l ভাঙা মাটির গ্লাস
আর কিছু কথা পড়েছিল বনভোজনের পর
বনতুলসীর ঝোপে খাদের নীচে
খুনির মন যেরকম পড়ে থাকে
খুনের চত্বরে.... সেই রকমই
একা একা গিয়েছি সেখানে l
অবাধ্য কোকিল ডাকছিল শুধু
দ্রুত চলে এসেছিলাম
কাউকে বলিনি........
৩
অনেক ট্র্যাফিক সিগন্যাল পার হয়ে
গন্তব্যে পৌঁছোতে হয়--
লালবাতির পর সবুজের অপেক্ষা
আমরা সবুজের অভিযান নিয়ে কথা বলি
কথা বলি সবুজ বিপ্লব নিয়ে
কত বিপ্লব ধুয়ে মুছে গেছে রাজপথে
তবুও রাজপথের সিগন্যালে থামতেই হয়।
এখন নিয়ন্ত্রিত জীবন, দশটা পাঁচটা নয়
ওয়ার্ক ফ্রম হোম, প্রয়োজনে। সব ভার্চুয়াল।
কোথা থেকে এলো মারণ লাল আলো
পৌঁছোতে দিচ্ছে না নির্দিষ্ট গন্তব্যে।লাল
ট্র্যাফিক সিগনাল থামিয়ে দিয়েছে বিশ্ব।
৪
যাদের প্রতি লিখছি ঘৃণা রাগ
মাঠে নেমেও ছুঁড়তে রাজী তাও
যতোই সাজো সোঁদরবনের বাঘ
পেট ভরাতে আড়ালে ঘাস খাও !
ধমক চমক যাচ্ছো দিয়ে ঠিক
লম্ফ দিয়ে বাজাচ্ছে জয়ঢাক
কথা ছিলো তোদের বাস্তবিক
এই মাটিতে গুঁজে রাখাই নাক!
জ্যোৎস্নারাতে ধরলে কতোই চাঁদ
এখন তাদের নিলাম করতে চাও
জেনেই গেছি তোমাদের সব ফাঁদ
বন্ধু হতে যতোই হাত বাড়াও!
পচা গলা আবর্জনাদের
সঙ্গ পেতে ছিলোই তো উন্মুখ
পিঠ বাঁচিয়ে লোভে উচ্ছিষ্টের
নিচ্ছে স্তাবক স্রোতের অভিমুখ !
__
বাড়ছে তোদের ঘাতক-দালাল রাস
সইবে না আর মানুষ জীবনভর
মুখোশধারী তোরাই তো ভাইরাস
আজ সকালে লিখেছি থাপ্পড়!
৫
তিন রঙা পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে
গনতন্ত্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
এই মাটিতে মিশে থাকা রক্ত ঘাম
আর লড়াই
বিস্মৃত হতে হতে অমাবস্যা আসন্ন।
ওই যে মেয়েটি রোজ হাজির হয়
আদালতে, সুবিচারের আশায়
কোন এক স্বাধীনতা দিবসে
ধর্ষিতা হয়েছে সে ।
প্রতিদিন আদালত তার ধর্ষণের কাহিনী শোনে-
তারপর? তারপর
আইনের ফাঁক কাটিয়ে হয় গোল ।
তবুও এই ভারত মহান
মাঠের পাশের বস্তিতে স্বাধীনতা দিবস রাতে
আগুন লেগে ছিল
পুড়ে ছাই আগাছা কিছু মানুষ।
মদ মাংস আর দেশাত্মবোধক গান
কেমন মিশে গেছে
তাইমেরে ভারত মহান ।
৬
অন্ধকারে জমেছিল ক্রোধ, এখন সেটাও গলে জল
ভুলে গেছি প্রতিবাদ, গর্জনের নিটোল কৌশল
ফুরিয়ে যাবার আগে তবু খুঁজি শান্তির অভিজ্ঞান
রক্তের অবিশ্বাস মুছে দেয় চক্রের ধ্যান
হাতে হাতে তাও ত্রিবর্ণ নিশানেই বিশ্বাস রাখি -
হিসেব করি না, কতটা মরেছি আরো কতখানি বাকি
নীলাভ এই গ্রহে জানি মৃত্যুই বলে শেষ কথা
তার কাছে অবনত রক্তচোখ, বারুদ, ঘাতকতা...
আশ্চর্য ঝড়ের মত ধ্বংসের পরে হবে সব শুনশান
আমরা জানিনা কেউ কবরের মিছিলে কারা পাব স্থান
কারা হারাতে চলেছে জন্মসূত্রে পাওয়া চিতার আগুন?
কারা বাড়া ভাতে লবণ সরিয়ে তুলে নিচ্ছে খুন ?
ঘুমের মধ্যে খুঁজি চিতার পরশ, যদি ছুঁতে পারি
ভয়ের সুড়ঙ্গে দেখি পিপিকীটস্-এ দাঁড়িয়ে অচেনা
প্রহরী
সংকটে সে-ই হবে বংশীধারী প্রেমিক রাখাল-
স্বজন-বর্জিত দিনে তারই হাতে তুলে দিই ইহকাল পরকাল।

No comments:
Post a Comment