Tuesday, 26 October 2021

বিজয়া সম্ভার

 বিজয়া সম্মিলনির কবিতা ও গল্পের প্রথম অংশে আমরা প্রকাশ করলাম নিম্নলিখিত লেখকদের লেখা।


রাণু ভট্টাচার্য
শতদ্রু মজুমদার
স্বাগতা ভট্টাচার্য 
পূর্বা দাস
সুবীর মজুমদার 


অলক্ষ্মীর লক্ষ্মীপূজো
রাণু ভট্টাচার্য

--------------------------------

-  অলক্ষ্মী, বেরো, বেরো.... বেরো আমার বাড়ি থেকে।

-  আঃ করছো কি, ছাড়ো... পূজোর দিন..

-  এই অসীম, কি করছিস কি, ছাড় ওকে।

-  তুমি জানো না বড়দি, খালি পয়সা ওড়াবে!পঞ্চাশটা  টাকা রেখেছি সকালে ,  ঠিক দশটা টাকা সরিয়েছে! আবার বলে কিনা, টাকা জমায়! সারাক্ষণ ফুটানি। এটা কিনছে, ওটা কিনছে আর ঘর সাজাচ্ছে। চোর, বদমাস, মিথ্যুক!

      দরজার খোঁটাটা শক্ত করে জড়িয়ে চোখ বন্ধ করে থাকে রমা।  বিষচোখে সেদিকে তাকিয়ে তাসের আড্ডায় বেরিয়ে যায় অসীম।

     ধ্যাবড়ানো আলপনা মুছে রমা আবার আল্পনা এঁকেছে । লক্ষ্মীর পা, ধানের ছড়া, পদ্মফুল।ঝিলমিল হাসি তার মুখে। কিন্তু ভেতরে দামামা বাজছে, অলক্ষ্মী, অলক্ষ্মী, অলক্ষ্মী, অলক্ষ্মী।

চোখের জল লুকিয়ে রমা ভাবে, সে সত্যিই অলক্ষ্মী। নইলে, সেই যে চাঁদ সদাগরের গল্পে, সেই যে, বেহুলা, ভেলায় করে গাঙুরের জলে ভেসে গিয়ে ফিরিয়ে  এনেছিল স্বামীর প্রাণ, আর সে কিনা নিজের স্বামীর মনটা ফেরাতে পারলো না! অলক্ষ্মী নয়তো কি, সে?

         ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালে রমা। গলায় তার গুনগুন -

          ‌নিছনি নগর হতে কন্যা চম্পকনগরে

        ‌বধূবেশে কন্যা আসে লোহার বাসরঘরে।

         ‌ছিদ্র দিয়ে কালনাগিনী বধূর অগোচরে

         ‌দংশালো চাঁদের তনয় কুমার লখিন্দরে।

        কই? কোথায়? কোথা দিয়ে কালনাগিনী এসে ঢুকলো তার সংসারে?

       পূজো শেষ হলো। সবাই প্রসাদ পেলো। অনেক বলা সত্ত্বেও ননদ ননদাই ফিরে গেলো। রাতঘুমে অসীম ঘুমন্ত। আর তখন, রমার বুকে সেই দামামাটা আরও জোরে বেজে উঠলো, অলক্ষ্মী,অলক্ষ্মী, অলক্ষ্মী, অলক্ষ্মী।

       লক্ষ্মী ঠাকুরের সামনে জাগরণের নৈবেদ্য আর জাগরণের প্রদীপ গুছিয়ে রেখে তনুপুকুরের ঘাটে গিয়ে বসলো রমা। চারদিকে চাঁদের আলো, ধানের গন্ধ, পদ্মফুলের গন্ধ আর মায়ের গায়ের কাপড়ের গন্ধ।  হু হু করে উঠলো রমার মনটা। মাকে সে বলতো, মা, ঠাকুরকে জলে ফেলে দেয় কেন? মা বলতো, জলের ভেতর দিয়ে ভেসে ভেসে ঠাকুর তার নিজের দেশে ফিরে যায়। তবে লক্ষ্মীঠাকুরকে কিন্তু জলে ফেলতে নেই, ঘরে রেখে দিতে হয়। চোখের জলে রমা ভাবে, তা'হলে অলক্ষ্মীকে ফেলে দিতে হয় বুঝি? তাই বুঝি কুলো বাজিয়ে পাছদুয়ার দিয়ে অলক্ষ্মীকে বিদেয় করে বলে  -  অলক্ষ্মী, দূর হও, লক্ষ্মী তুমি ঘরে এসো! 

        ঘাটের সিঁড়িতে পুকুরের জল তার পা ছুঁয়ে ছিল। এবার বুক ছুঁল, মাথার চুল ছুঁল। আঃ কি শান্তি! কি আরাম তার বেপথু মনটায়!

     জলে মেশে চোখের বারি অন্তরে গুমরি

        অনন্ত ভাসানে চলে বেহুলা সুন্দরী।।


        এক বছর পর। আজ আবার কোজাগরী পূর্নিমা। অসীমের ব্যবসার কাঁচাপয়সা -  নতুন বৌ লক্ষ্মী সব ব্যাঙ্কে জমা করে দেয়। ঘরে আলো, পাখা, টিভি। কিন্তু পূজো হচ্ছে না আজ। লক্ষ্মী বলে দিয়েছে, ওসব বেগার খাটতে পারবে না সে। 

       উলু আর শাঁখের  আওয়াজে হু হু করে ওঠা অসীমের মনটা খান্ খান্ হয়ে যায় কিছু ভাঙার শব্দে। নাঃ ও কিছু নয়।  পুরোনো লক্ষ্মীর ভাঁড়টা ভেঙেছে তার বৌ। ঘরময় খুচরো পয়সা আর টাকা। কিন্তু, একি! এটা কি? কোণে হলুদের দাগ লাগা এ যে সেই দশ টাকাটা! গত কোজাগরী পূজোর দিনে এটার জন্যেই না সেই ভয়ানক ঘটনাটা ঘটে গেলো এ বাড়িতে?

       স্থানু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা  অসীম শুনতে পায় লক্ষ্মীর গলা।  - বাব্বাঃ শ'খানেক তো হবেই। কালই জমা দিয়ে আসবো ব্যাঙ্কে। ভালো হবে না? কি গো......


তারপর
শতদ্রু মজুমদার


খুব ছোটোবেলায়  গল্প বলে ঘুম পাড়াতো আমার মা l সেগুলো বানানো গল্প l কিন্তু দারুন  l ঘুম ছুটে যেত l মা ঘুমিয়ে পড়তো l আমি  ঠেলা মেরে বলতাম : তারপর কী হলো ?

----এখন ঘুমিয়ে পড় !

----তারপর কী হলো বলো না --

-----মনে পড়ছে না ---কাল বলবো ---এখন ঘুমিয়ে পড় !

কিন্তু পরের দিনও একই অবস্থা : তারপর 

যে কী হলো জানা হলো না !

 

(2)

আমার ছেলেকে   গল্প বলতাম l তার কোনও আগ্রহ ছিল না !সম্পূর্ণ গল্পই শোনাতাম l গল্প শেষ হবার আগেই সে ঘুমিয়ে পড়তো !

 

( 3 )

আমার নাতনির নাম পাখি l সারাক্ষণ বকর বকর !রাত্তিরে ওকে গল্প শোনাতাম l শুনতে শুনতে কখনো ঘুমিয়ে পড়তো সে l কখনো আমি !গল্পের মাঝখানে থেমেও যেতাম l কিন্তু পাখি কখনোই বলে নি : তারপর কী হলো l 

একদিন সে বলল : মা বলেছে ইংলিশে স্টোরি বলতে !

----এ তো রূপকথা !কী অনুবাদ করবো --টুনটুনির গল্প ঠাকুমার ঝুলির কি ট্রানস্লেশন সম্ভব ?

---প্লীজ ডোন্ট টেল বেঙ্গলি স্টোরি !


(4 )

পাখি আর আমার ঘরে ঢোকে না l নিশ্চয় ওর মা এর নির্দেশ l ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ে l প্রচন্ড চাপ l পড়া ছাড়াও নাচ -আবৃত্তি -ছবি আঁকা l

মা 'র  হুকুম l বাবার ধমক !কোনও ব্যাপারে কৌতূহল  নেই l আগ্রহ নেই l সবই রুটিন মাফিক l   

(  5 )

ও যখন বড়ো হবে তখন আমি এই পৃথিবীতে থাকবো না !তাই মেয়েটার ভবিষ্যৎও আমার কাছে অজানাই থেকে যাবে !!


অস্তিত্ব
স্বাগতা ভট্টাচার্য


একজন নিরুদ্দেশ মানুষের

ফেলে যাওয়া পথে

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে 

টুকরো সময়ের আলপনা ।

ঘর ,বারান্দায় অগোছালো রোদ্দুর

ভাসিয়ে দিচ্ছে গতকালের উপস্থিত উজ্জ্বল

মূহুর্ত ।

চাঁদের চুঁইয়ে পড়া আলোর সাথে

কড়া নাড়ার পুরনো শব্দ,

পুকুরপাড়ে নেমে আসা সাদা চাদর

জড়ানো কুয়াশা সকাল যেন

না কামানো দাড়ির সাথে অশৌচ

পালন করছে ।

এভাবেই টুপ করে ঠিকানা হারানো

নিরুদ্দিষ্ট  জীবন 

ছবিতে থাকে-ঘোলাটে সময়ের

ধূসর স্মৃতি ক্রমশঃ ফিকে হয় 

অস্তিত্ব ।


প্রতিবাদ


প্রতিবাদ আসলে মানুষের জন্য 

কাছের হয় কলম ,

তোষণে লেহনে মাছির মত 

উড়ছে মানুষ 

মরচে ধরছে মগজের ধার ॥

তবুও ভিজি মানুষের জন্য 

ঝড়ে ভাঙা ঘর 

গড়ে তুললে চাই ,

মানুষের জন্য সত্যিই কি প্রতিবাদে 

নামতে চাই ?

নিজের চোখে চোখ রাখ 

হাতের সাথে হাত ,

কলমের ডগালিখছে আজ  

প্রতিবারে প্রতিবাদ ।


রক্তকরবী
পূর্বা দাস


খবরটা দিল শ্রেয়সী।

- কি করবি, যাবি? আমায় তো কার্ড দিয়ে নেমন্ত করেছে, যেতেই হবে। তোকে হয়ত হোয়াটসঅ্যাপে জানাবে।


- দেখি কি করি। ভার্চুয়ালি বললে ভার্চুয়ালিই কাটিয়ে দেব। আমার অত সময় নেই এখন। একতাড়া খাতা দেখা বাকি। তবে কায়দা মেরে যদি বাড়িতে আসে, তখন...


যদিও ভালো করেই জানি কায়দা মারার মানুষ সে নয়। কেজি ওয়ান থেকে একসাথে। মাধ্যমিকে এগ্রিগেটে কুড়ি আর অংকে পাঁচ নম্বর বেশি পেয়েছিলাম। উচ্চ মাধ্যমিকে সায়েন্স নিয়ে একদম বিশ্রীভাবে ধ্যাড়ালাম। আর ওপথ মাড়াইনি। ইতিহাসে অনার্স নিয়ে নিলাম ঝপ করে। ও কিন্তু দিব্যি চারটেতে লেটার আর জয়েন্টে একটা মারকাটারি রয্যাঙ্ক করেও স্কটিশে চলে গেল অংক নিয়ে পড়তে। ও হ্যা, ও নন্দিনী, আমি তনুকা। কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ ছিলাম অনেকদিন পর্যন্ত। বন্ধুরা বলত, এত চিপকে থাকিস সবসময়, লেসবি নাকি! মাস্টার্স করার সময় থেকে একটু আলগা আলগা। আমি যাদবপুরের হস্টেলে। ও উত্তরপাড়া থেকে যাতায়াত করতো রাজাবাজার। হঠাৎ শুনলাম নন্দিনী বিয়ে করেছে। রাগে অভিমানে বেশ কয়েকবছর সব যোগাযোগ ছিঁড়ে ফেললাম। চাকরিটা পাওয়ার পর অনেকটা হালকা লাগল। ঠিকানা, ফোন নাম্বার জোগাড় করলাম। যাব, বলাতে একটু মিইয়ে গেল যেন। আমার ওসবে কান দেওয়ার ইচ্ছে নেই। একটা শনিবার কলেজ-ফেরত ওর শ্বশুরবাড়ি। সোনারপুরে একটা এঁদো গলিতে অনেক ঘোরাঘুরির পর একতলা পুরনো বাড়িটা খুঁজে পেলাম। কিন্তু নন্দিনীকে পেলাম না।

- মাস্টার্সটা কমপ্লিট করলি না, কি হয়েছিল, কি?

হি হি করে হেসে বলল, " পিরিত... পিরিত রে... রঞ্জনের সাথে নন্দিনের পিরিত।" 


আরও কয়েক বছর পরে স্মার্টফোনের দৌলতে বন্ধুরা আবার এককাট্টা। রিউনিয়নের ধামাকা। নন্দিনী দু একবার এল। তারপর অনেকদূর... বাচ্চারা ছোট... শাশুড়ির শরীর খারাপ। আমিও যেন স্বস্তি পেলাম।শুধু লেখাপড়া তো নয়, সব বিষয়েই ওর অদ্ভুত ক্যারিশমা কে কখনো টপকে যেতে পারিনি আমি। ও এলে কোথাও যেন আমার একটা নিঃশব্দ পরাজয়। শ্বশুরবাড়িতে যেদিন ওকে দেখেছিলাম, মুটিয়ে যাওয়া, এলোথেলো শাড়ি পরা... নন্দিনীর ওপর ছোটবেলা থেকে যে ঈর্ষার কাটাটা খচখচ করত যখন তখন তার ওপর যেন কেউ একটা নরম প্রলেপ দিল।

হারিয়ে ফেলে, হারিয়ে দিয়ে বেশ সুখে ছিলাম। কানাঘুষোয় খবর আসত, ও নাকি একটা সেলাই স্কুল করেছে। হরি! হরি! শেষ পর্যন্ত সেলাই দিদিমণি! সেসব আর চাক্ষুষ করার ইচ্ছাই হয়নি। তারপরেই এই ইনভিটেশন। প্রবল কৌতুহল টেনে আনল একাডেমিতে। নন্দিনীর একক প্রদর্শনী। আমাদের দেখে ওর চোখ ঝলসে উঠলেও উচ্ছ্বাসে ভাসছে পারেনি। বিশিষ্ট অতিথিরা এসেছেন। ওর আঁকা ছবি সাথে কিছু অনন্য ক্রাফট আইটেম ঘুরে ঘুরে দেখলাম। বাইরে ডিসপ্লে বোর্ডে ওর ছবি এবং অন্যান্য সৃষ্টি বিক্রির টাকার পরিমাণ এবং সে টাকা কোথায় কোন ওয়েলফেয়ার সংস্থায় যাবে তার নাম। 


বেরোনোর সময় ওর ছায়াসঙ্গী কয়েকটি অল্প বয়সী মেয়েকে দেখে ওদের পরিচয় জানতে চাইলাম।

- ওরাই তো আমার অচলায়তনের চাকা রে। ভাঙতে পেরেছি বুঝলি... ওদের নিয়ে একটা ছোট স্কুল চালাই।

সেই কালো ফ্রেমের চশমা, ঝকঝকে চোখ, সেই ধারালো মুখ, পাঁচ ফুট চার ইঞ্চির নন্দিনী। 


ওলা বুক করতে করতে শ্রেয়সী বলল," রক্তকরবী কখনো শুকোয় না, বল! "


সুবীর মজুমদার 
এ ভাবে কেউ ডাকবে না


চিন্তা কোরোনা, বৃষ্টি একদিন থেমে যাবে

তবে, আর একবার পড়ে নাও পূর্বাভাষ

দ্রাঘিমায় জমেছে পুরু মেঘের স্তর

জলোচ্ছাস ক্রমশ এগিয়ে আসছে 

মহা প্লাবনের আর বেশি দেরি নেই, চলে এসো,


নোয়ার নৌকোয় এখনও জায়গা আছে

আমি দাঁড়িয়ে আছি অল্প আগুন নিয়ে

সেই উত্তাপে আমরা কাটিয়ে দেবো হিমযুগ

তারপর অঙ্কুর আসবে শষ্য বীজে

ফিরে আসবে রোদ্দুরের দিন গুলো

নতুন অক্ষর লিপিতে লিখে রাখব সব অসম্ভব, 


পছন্দ মতো বেছে নেবো কোনো পাহাড়

গুহা থেকে দেখা যাবে ঝরনার জল

মাটিতে আঁকা হবে আলো ছায়ার জাফরী

হাঁটতে হাঁটতে এখন মনে করো কোনো কিংবদন্তি

নতুন সেই সভ্যতার নাম দেবো দিগন্তের মতো

আর বেশি দেরি নেই, ভাবতে ভাবতে চলে এসো।


খেলা ধূলা সম্পর্কিত


তোমার রিফ্লেক্স কমে এসেছে, স্লিপ থেকে চলে যাও থার্ডম্যানে

বুঝে নাও, তোমায় আসলে চলে যেতে বলছি, তুমি বাতিল

শেষ রেসের পরে ঘোড়াকে গুলি করা হয়, জান নিশ্চয়ই।


দেরি কোরোনা, অনেকে বসে আছে রিজার্ভ বেঞ্চে

ওরা তোমার সব রেকর্ড একে একে ভেঙ্গে দেবে

চলে যাও বলতে আর ভালো লাগছে না, এবার শূণ্যে গুলি করব


তারপরেও না গেলে তাক করব তোমার বুক

জার্সিটা খুলে রাখ , ওতে বুলেটের দাগ থেকে যাবে

আর শুনে রাখ ক’টা কথা, অযথা বিতর্ক রেখো না।


আত্মজীবনী দেখিয়ে নেবে ছাপানোর আগে

জেনে রেখ, তোমার কু কাহিনী সব জমা আছে সযত্নে

দেখবে তোমার বিজ্ঞাপন ধারাভাষ্য সব বন্ধ।



বিজয়া  সম্মিলনির শেষ অংশ 
সূচী
শুভশ্রী সাহা 
অরিজিৎ পাঠক
দত্তা 
অমর ঘোষ 
দেবাশিস দে
নব বন্দ্যোপাধ্যায় 
উৎপল ত্রিবেদী 

সাপ লুডো
শুভশ্রী সাহা


ড্রয়ার টা খুলে হাত বাড়াতেই হাত ঠেকল গুলিটার গায়ে।! কাঁচের গুলি ভেতরে নীল আর হলুদ মেশানো! বাচ্ছাদের খেলার   । তার ড্রয়ারে কি করে এলো! ভাবতে না ভাবতেই বুকে আবার একটু চিন চিনানি।  আঞ্জিওপ্ল্যাস্টির পর অঞ্জুর কড়া নির্দেশে সব ওষুধ সুবীর অফিসেও রাখে! ওষুধ খাবার পর গুলিটা হাতের মুঠ করলো সে। আহ! কতদিন পর!


-- আরে দাদা চলো, পার্টিতো  কখন এসে বসেই আছে। তবে  ব্যাটা সেন কিন্তু  খেলছে বস! সব একাই মারার তালে আছে। 

সুবীর অসীমের দিকে তাকাতেই ওর মণিতে স্পষ্ট একটা সাপ দেখতে পেল। 

 সুবীর  চমকে গেল। কিন্তু ওই এক মুহূর্তই।


--  স্যার মিটিং এর ফাইলটা,

শোন সুস্মিতা, সুবীর মাথা তুলতেই সুস্মিতার চোখের মণিতে  লিজাকে নগ্ন দেখল।  স্পষ্ট! কিন্তু  লিজা কেন ! হঠাৎ! 

আহ, এ সব কী হচ্ছে,    সেতো  সুস্মিতাকে সত্যি সত্যি এ ভাবে দেখতে চেয়েছিল!  কিন্তু সুস্মিতা যে একেবারেই অন্যরকম নিকলা!


সুবীর পাশ কাটালো। পার্টির সাথে রফা করছে সেন। কাঁচের টেবিলের প্রতিবিম্বে কিন্তু  সে লোকটার চোখে জাল দেখল। দেখেই ভয়ে  দ্রুত মিটিং ত্যাগ করে সে বেরিয়ে গেল।

আজ   এমন সব অদ্ভুত ছবি সবার চোখের মধ্যে কেন ভাসছে সে বুঝতে পারছে না।  এরা তার বহুদিন ধরেই  চেনা!  

-- হ্যালো! ওষুধ খেয়েছ?

কই, চুপ করে আছ কেন! অঞ্জুর উদবিগ্ন গলা

-- সুবীর অন্যমনস্কের মতো হ্যাঁ বলল অঞ্জুকে! হ্যালো বলার সাথে সাথেই তার একটা অপরিচিত গন্ধ নাকে এসেছিল।

গুলিটাকে  মুঠো করে ঠেলে দিল আবার ড্রয়ারে। শরীরটা ভাল লাগছে না, বাড়ি যাবে।


-- পার্কস্ট্রিটের সিগন্যালে আটকে থাকার সময়ই  সুস্মিতাকে দেখতে পেল চিরঞ্জীবের সাথে। চমকে গেল সে, চিরঞ্জীব আগে এই অফিসেই পোস্টেড ছিল। ও আর চিরঞ্জীব  তখন ট্যাক্স মুকুবের ঘুষের  টাকায় প্রায় প্রত্যেকদিন লিজার ফ্ল্যাটে--- চমক ভাঙল তার, তাই জন্য সে আজ সুস্মিতাকে লিজার মতই---  চিরঞ্জীবের হাঁ বেড়ে যেতে চিরঞ্জীবকে সুবীরই  কায়দা করে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি ভাগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সুস্মিতা কি করছে চিরঞ্জীবের সাথে,  চিরঞ্জীবের চোখের মণিতেও কি সাপ ছিল! -- তার  আবার চিনচিনে অস্বস্তি শুরু হলো। বিনবিনানি  ঘাম হচ্ছে এসিতে বসেও। চিরঞ্জীবএত তাড়াতাড়ি  ফিরে এলো কি করে!


সিঁড়ি দিয়ে উঠে শোবার ঘরে ঢুকেই তার একটা অপরিচিত গন্ধ লাগল। রিস্টোয়াচ খুলে মুখ তুলতেই আয়নায় সে তার চোখে সাদা চাদর বিছানো খাট টা দেখল!

কিন্তু এখন তো কমলা  চাদর বিছানো --

--- তোমার চা, পেছনে কাপ হাতে অঞ্জু দাঁড়িয়ে। 

সুবীরের  চোখ বন্ধ করা। খুলতে সাহস হচ্ছে না আর। চিনচিনানি ব্যাথাটা টা বেশ বাড়ছে। ছড়িয়ে পড়ছে সারা বুক জুড়ে।তবুজোর করে সে খুলে সামনে তাকাতেই, অঞ্জুর চোখে  মণি বউদিকে দেখল। স্পষ্ট! মণি বউদি তার সেজদার বউ! তারা দুজন একসাথে --

কিন্তু অঞ্জুর চোখে মণি বউদি কেন-- তবে কি অঞ্জুও  মণি বউদির মতো কারুর সাথে--- 

কিছু একটা ধরতে গেল সুবীর মুঠো করে , হয়ত অঞ্জুকেই, জোর করে চোখ খুলে দেখল অঞ্জুর মণির বদলে অবিকল সেই নীল হলুদ গুলিদুটি স্থির হয়ে আছে।


অরিজিৎ পাঠক 
দুটি কবিতা 


প্যান্ডোরার বাকসো খুলে বসলে একে একে বেরিয়ে আসতে চায়

কালো সুতো, সেফটিপিন, হ্যারিকেন চিমনি, দুলালের তালমিছরি 

এত যে সমারোহে আকাশ যাপন 

সে ব্যাপারে হাতযশ কোনোদিনই ছিল না আমার

কতবার এক চিলতে মেঘকে গোটা আকাশ ভেবে ফেলে

দুরদার করে নেমে এসেছি ছাদের কার্নিশ বেয়ে

জন্মাবধি কেউ বলে দেয়নি‌ আমায়

ক্ষয়ে যাওয়া বিকেলগুলো যেখানে জমাট বেঁধে থাকে

তার ওপরে দোলনা লাগানো নীলচে বাগানটাকে আকাশ বলে

কতদিন দেরি করে ঘাটে পৌঁছেছি বলে

আমাকে ফেলে রেখে চলে গিয়েছে দিনের শেষ খেয়াটি

কতদিন লাফ দিয়ে নৌকোয় উঠেছি বাঁধন খুলে দেবার পরেও

এপারে সব কিছু জড়ো হয়ে মিলিয়ে যেতে যেতে

ওপারে জেগে উঠতে দেখেছি সাদা কালো রঙের ঘরবাড়ি, দোকান

এখনও অ

নেক রাত ভেজা পালক জড়িয়ে কাটানো হলো না

অনেকটা অপূর্ণ সময় চলে গেল শুধু ছল ছুতো করে, আর নয়

এবারে আমি স্থির হয়ে নদীর ধারে বসে 

অলস জলে চোখের মণির ছায়া ভাসতে দেখবো


ও টিকিটঘর, নোঙর তুলে দিতে বলো

                              আমি আর ওপারে যাবো না ।।


 **               _

জড়িয়ে থাকার চেয়ে শূন্যজাগতিক

সত্য বলে আর কিছু নেই

যেমন ছুটে আসা দ্যুতিমান তারা

পেয়েছিলো সূর্যের অপাপ আলিঙ্গন

ধূসরিত পৃথিবীর জন্মমুহুর্তক্ষনে 


তেমন করেই যদি আজও 

প্রেম আসে বীজধান মাঠে

যদি শিশির লাগায় চোখে সোহাগ শর্বরী

অশনি আঘাত আনে আলোকসামান্য 

অনিবার্য স্বেচ্ছামৃত্যু কোনো

ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মত, তবু 

স্নিগ্ধ ভেবে তাকে জড়িয়ে ধরাই শ্রেয়


হে প্রিয়, 

বৈরিজন্মের প্রেয়সী আমার

সম্ভোগঋতুর ছাই ছাই রৌদ্রগন্ধ 

আশরীর জড়িয়ে নেবার আগে 

আমাকে সামান্য ভিক্ষা দিয়ে যেও

তোমার অপরিসীম সমূলের অভিঘাতখানি


সুডৌল বাহুর প্রেষণে

মাংসপিণ্ড জুড়ে রক্তক্ষরণের পরে 

একবার সমর্পিতস্বরে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে

নিস্পন্দ আয়ুটির নাম ধরে ডেকো


                                       

______________


নহবৎ
দত্তা


 পেঁজা তুলোর মতো মেঘ দেখলে ভীষণ 

 ছুঁতে ইচ্ছে করে নীল। .

 বৃষ্টিভেজা মনের পাশে  রেখে দিই কালি ও কলম

 ভেসে আসা কাশফুল গন্ধে

 হারিয়ে যায় তোমার-আমার ঋণ 

 বছরের ঘুম ভেঙে যেন একদিন আমি জেগে উঠি !

 অনুভব করি আমারই মতন তুমিও

 পাখি হতে চাও মুক্তির খোঁজে।


 সমস্ত নিয়ম ভেঙে-চুরে শিউলি সোহাগে

 তিরতিরে মন নিয়ে জল থই থই ঘর ছেড়ে

  ছুট্টে পেরোই বারান্দা-সদর 

 দেখি,

  সমস্ত রাস্তা জুড়ে বসেছে নহবৎ


 শারদীয়ার ।। 


এ সময়ে দাঁড়িয়ে


 এখনো কর্ষণ বাকি ঋতুর মাটি 

 কলমের আঁচড়ে কাঁপছে খড়ের চাল

 ফোঁটা ফোঁটা রক্তে ঢাকছে শিশির ভেজা মাঠ।

 জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে হাত জোড় করে এগিয়ে আসছে কালো মানুষের দল…

 খালি গা, খালি পা

 পোড়া তামাকের গন্ধে ভাসছে শরীর।


 আমি এক কলম বিলাসী মানুষ

  হাতে সাদা খাতা নিয়ে

 এ সময়ে দাঁড়িয়ে আছি

 আলপথের মাঝ বরাবর 


 একটা সূর্যোদয়ের কবিতা লিখব বলে।


অমর ঘোষ 
পক্ষীরাজ


হঠাৎ জানা গেল পায়ের নীচে রাস্তা নেই

জানা গেল অতীত জলধারা থেকে যে নদী

সেও উধাও

গাছেরা ঝুলে আছে শূন্য থেকে


মাটিতে পা রাখার আপ্রাণ চেষ্টায়

হাওয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি


তরোয়াল ঘোরাতে ঘোরাতে জেনে ফেলি

আমার ঘোড়ার নাম পক্ষীরাজ -


চিহ্ন


মহারানীর রাজত্বে গফুর হঠাৎ রাগ দেখিয়ে ফেলেছিল

সেই থেকে মোষের পিঠ

আর সোজা হয়নি


তারপর অত খাল কাটা হল 

কত জলাধার 

কত মূর্তি খাড়া হল 

কিন্তু মোষের পিঠ আর সোজা হয় না 


অদূরে গমক্ষেতে হাওয়ারা ফিসফিস করে 

কথার পিঠে কথা ওঠে 

স্লোগান লেখা হয় আকাশে 


এখন গফুরেরা বড় একরোখা 

কিন্তু মোষের পিঠ সোজা হবে কি?


অসম্পূর্ণ


দাঁড়িয়ে আছি 

খুব কাছাকাছি 

দেখছি নিখুঁত করে 


তবু দেখা সম্পূর্ন হয়না 

অসমাপ্ত থেকে যায় দিন 

পর্ব ভেঙ্গে ভেঙে লেখা 

সেই চিঠি 

সেই স্বরবর্ণের ঝরঝরে 

মুক্তো বিন্দু


দিগন্ত চোখের তারা 


আয়নার ভেতরে ও বাইরে একই মানুষ হয় কি করে...


বড় মাছ
দেবাশিস দে

 গিন্নী, তোমার কথাই ঠিক – এই দেখ কত বড় মাছ। আমার জীবনে এত বড় মাছ আমি কোনো দিন ধরিনি।

 শুকদেব মন্ডল তার শীকারটা দাওয়ায় গিন্নীর সামনে রেখে ঘরে  ঢুকে দরজা বন্ধ করে। বৌএর একটা কাপড় গলায় জড়িয়ে আড়কাঠে নিজের শরীরকে ঝুলিয়ে দেয়।

 দর্মার বাড়ি। মাটির মেঝে, ঘরের সামনে ছোটো দাওয়া, পুরোটাই টালির চাল, ঘরের দুদিকে দুটি জানলা। একটি তক্তোপোষ, তাতে তোষক বালিস সবই আছে। তবে ঘরের আসবাব ও অনান্য জিনিসে  দিন আনা দিন খাওয়ার ছাপ। দাওয়ার এক ধারে উনোন জ্বেলে শুকদেবের স্ত্রী কমলা রান্না করে। পাশে কমদামি কাঠে বানানো সেলফ্‌এ রান্নার সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক টুকিটাকি থাকে। শুকদেব, কমলা আর ওদের দুটো ছেলে – বড়টা পাঁচ ছোটটা তিন – এই নিয়ে শুকদেবের ছোটো সংসার। পেশায় ছুতোর। মোটামুটি রোজই কিছু না কিছু রোজগার জুটে যায়। তাই দিয়ে দিনের শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাজার করে আনে সে। বাড়ির সামনে ছোটো এক ফালি জমি। কলা লঙ্কা, লাউ, কুমড়ো গাছ আর কিছু শাকসব্জি লাগিয়েছে সেখানে।  জমির পাশে একটা ছোটো পুকুর। পানা ভর্ত্তি। পুকুরের মালিক অবশ্য শুকদেব নয় – অধীর মিত্র। শুকদেবের বাড়ির উল্টোদিকে যে হলুদ  রংএর দোতালা বাড়িটা দেখা য়ায় – ওটাই অধীর মিত্রর। অধীর মিত্র শুকদেবকে দয়া ও স্নেহের চোখে দেখেন। প্রয়োজনে শুকদেব ওঁর বাড়ির টুকটাক কাজও করে দেয়। অধীর মিত্র পুকুর থেকে খুব কমই মাছ ধরেন। মাঝে মাঝেই শুকদেব ঐ পানাপুকুরে বর্শা দিয়ে মাছ ধরে। অধীর মিত্র তাতে কিছু বলে না। বাজার থেকে মাছ কেনার তেমন ক্ষমতা নেই শুকদেবের। যে দিন পুকুরে মাছ পায় মাছ রান্না করে কমলা।

 কমলা দাওয়ায় রান্না করতে করতে হঠাৎ দেখে পানা পুকুরে পানাগুলি খুব নড়ছে। কমলা  বুঝে  যায় বড় মাছ আছে। শুকদেবকে বলে, ‘দেখ পুকুরে মনে হচ্ছে বড় মাছ আছে, ধরবে’? শুকদেব তার বর্শা নিয়ে এগিয়ে যায়। পানাগুলির নড়ন চড়ন লক্ষ্য করে বিদ্ধ করে সে। বর্শা আটকায়।

বর্শা আটকায় শুকদেবের পাঁচ বছরের ছেলের পিঠে। তা বুক ভেদ করে সামনে বেরিয়ে আসে। কমলা খেয়ালই করেনি তার বড় ছেলে খেলতে খেলতে কখন পুকুরের ধারে গিয়ে জলে পড়ে গেছে।


পাগলি জানে
নব বন্দ্যোপাধ্যায়


খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যায় সুরঞ্জনের। ভোরের পবিত্র পরিবেশ, দূষণহীন বাতাস,

কলকোলাহলহীন চরাচর খুব স্বাভাবিক ভাবেই অন্য অনেকের মতো মন আপ্লুত করে দেয়। বাড়ির কাছেই গঙ্গা। গঙ্গার ধারে পার্ক। সেই পার্কে কয়েক পাক ঘুরে শরীর মন খানিকটা সতেজ করতে বহু লোকই আসে  সুরঞ্জনের মতো। আসে কমবয়েসী মেয়েটিও।  আপনমনে

 বিড়বিড় করে। মাথার জটপড়া চুলে আঙ্গুল জড়ায়। খোলেও আবার। বোঝা যায় অনেকদিন চান করেনি। নোঙরা  জামাকাপড়ের  

দুর্গন্ধে কাছে ঘে৺ষতে চায় না কেউ।।

আজ  পার্কে হা৺টার পাট চুকিয়ে পুব আকাশে ঈশ্বরের রক্ত লাল চোখটির কাছে হাতজোড় করে চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করছিল সুরঞ্জন। হে মঙ্গলময়, এমন মধুর প্রভাতটি উপহার দেবার জন্য

আমার বিনত প্রণাম নিয়ো । সকলকে দেখার এই চোখ দাও ঠাকুর। সকলের

শুভ হোক ।

প্রণাম শেষে মাঠ ছেড়ে বেরোতে যাবে কাণের পাশে কেউ বলে উঠল,'কাকু- আজ কোনো অনুষ্ঠান হবে না?' ঘাড় ফিরিয়ে সুরঞ্জন দেখল সেই পাগলি মেয়েটা। হঠাৎ এই প্রশ্নের সামনে কেমন থতমত খেল সুরঞ্জন। জিগ্যেস না করে পারল না, 'কেন - অনুষ্ঠান কেন ?'

পাগলি আগের মতোই আঙ্গুলে মাথার চুল জড়াতে জড়াতে উত্তর দিল,'আজ যে একুশে ফেব্রুয়ারী!' কথা শেষ করে যেমন এসেছিল তেমনই চলে গেল সে সামনে থেকে।মাথা নিচু করে সুরঞ্জন বেরিয়ে এল পার্ক থেকে।


উৎপল ত্রিবেদী
শেষ কবিতার জন্য শোকগাথা 


তখন সন্ধ্যে নামছে গুটি গুটি পায়ে

দিনমনি হে,আরেকটুক্ষণ ছড়িয়ে রাখো আলো

নদীজলে আজ আমার মুখ দেখা হয়নি।

দক্ষিণদিকে মেঘ জমছে চাপ রক্তের মতো

আকাশকে বুঝি এইমাত্র গিলে ফেলবে

একটু সামলে দাও দিনমনি হে

আজ আরেকটু বড়দিন হোক।

আমার তো ঘন্টা বেজেই গিয়েছে,

ভালবাসা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে,পাশাপাশি

মূর্ছা গেছে অভিমান,

বেঁচে থাকার সাথে কবেকার আড়ি!

আমার নাড়ি-নক্ষত্রের হিসাব কাউকে দিইনি

কোনদিন দেখাইনি সাপলুডোর মই,

জানতাম ঘোড়ার আড়াই চালে

রাজা মরে বারবার।


অসহ্য দাবদাহে পুড়ে যাচ্ছি,

পুড়ছে দেশ,পুড়ে যাচ্ছে আত্মীয়-স্বজন

ল্যাম্পপোস্ট বেয়ে নেমে আসছে গলিত পাখির অবশেষ

আর আমি ,দিনমনি হে,

প্রার্থনায় নতজানু হচ্ছি--

আরেকটু ছড়িয়ে রাখো আলো,

আজ খুব বড়দিন হোক।


কবিতার পান্ডুলিপি


চন্দনের গন্ধ ছেড়ে

সাধের মুনিয়া পাখি উড়ে গেলে

যে রিক্ত খাঁচাটি পড়ে থাকে

তুমি তাকে সত্যিই স্বদেশ বলে ডাকো?


তোমার প্রান্তর ছুঁয়ে গলে গেল

যতগুলো বৃষ্টিমেঘ

যতখানি ভাসালো বাসর

তার নাম হোক তবে অনুৎপাদক ভালবাসা।


আমি ছড় দিতে গিয়ে দেখি

এস্রাজ কখন যেন তানপুরা হয়ে গেছে

কি করে মেলাবে সুর সন্ধ্যা মেঘ?

হংসধ্বনি বাতাসের কোথায় হারায়!


এইসব নরম শব্দের আড়ে

একটু একটু বেড়ে ওঠে

কয়েকটি চিল-কাক এবং শকুন

তাদের ধারালো চঞ্চু নিয়ে।


সব পাপ,সব প্রক্ষালন আর সমস্ত প্রতিমার তীরে

ভেসে আসা বিরহী কঙ্কাল তারা

ছিঁড়েখুঁড়ে আলো ফেলে দেখবে সরেজমিন

পাল্টে দেবে সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়ের নাম।


তোমরা আর আমরা মিলে

গ্রাম থেকে গ্রামে যাব,শহরে শহরে

কবিতার পান্ডুলিপি,অধিকন্তু দু'-চার কলম

প্রকাশ্যে উড়িয়ে দেব

ন্যাড়া ক্ষেতে,বিদ্যুৎবিহীন রাজপথে।


ঠিকঠাক থাকলে সামনের বছর পাবে বেনিফিট ম্যাচ

সাদা টাকায় ভালো বকশিষ পাবে

সবই তো তুমি বোঝ, এবার অবসর নাও।



বিজয়া সম্ভার

 বিজয়া সম্মিলনির কবিতা ও গল্পের প্রথম অংশে আমরা প্রকাশ করলাম নিম্নলিখিত লেখকদের লেখা। রাণু ভট্টাচার্য শতদ্রু মজুমদার স্বাগতা ভট্টাচার্য  পূর...