Tuesday, 22 September 2020

কবিতার পাতা ২

  #শারদীয়া_কিন্নর_দল




#ষষ্ঠ_পাতা


#কবিতা 




#বনানী_রায়


#শুনতে_পাচ্ছিস_ধম্মো !  

----


তোর মনে আছে ধম্মো, 

একটাই পৃষ্ঠা বাঁচিয়ে রেখেছিলি 

কেবল আমার জন্যই ! 

ক্ষয়ধরা ক্লিষ্ট  সময়ের সমস্ত অনিশ্চয়তার মধ্যেও 

শুধু আমাকেই দিবি বলে । 


তোর কি মনে আছে ধম্মো, 

শেষ পলাশের রাঙা আলো  

সূর্য ডুবে যাওয়ার রঙে কেমন মিশে গেছিলো, 

আর ,  আমরা , আগুন খুঁজে পাচ্ছিলাম  ---

তখনও , পৃষ্ঠাটা ছিল ।  সমাদরে , আমাদের কাছে। 


তোর কি আজও মনে আছে ধম্মো , 


শিকল ভাঙার অসহ্য দিন ...!


আমরা কেঁদেছিলাম  ---


আমরা জিততে পারিনি ... 


সেদিনই , 


আমরা নিশ্চিত হেরে গিয়েছি জেনে 


পৃষ্ঠাটা  ছিঁড়ে উড়িয়ে দিয়েছিলাম বাতাসে !.... 


এখন দ্যাখ্ , 

বৃষ্টির নামে দুই চার পংক্তি 

তোর জন্য লেখা 

কতটাই  অসম্ভব হয়ে উঠল ...




#স্বাগতা_ভট্টাচার্য্য


#অচেনা


চেনা মুখেরা কখনো অতি অচেনা

ধূসর স্মৃতি হাতড়ে

কিছুতেই চিনতে ই পারি না 

এক জন্মের খুব চেনা মুখ ।

গলির মুখের বিরাট বটগাছটা

এক ঝড়ের রাতে 

আচমকা মুখ থুবড়ে পড়েছিল,

ভেঙে পড়া পাখির ডিমগুলো 

থেকে রক্ত ঝরে নি ।

কিন্ত উদাসী মা পাখির শূণ্য সেই দৃষ্টি

আমার খুবই চেনা ।

'অবাঞ্ছিত মাতৃত্ব 'এড়াতে বন্ধ ঘরের অচেতন

আমিও

চিনেছিলাম চেনা মুখের অচেনা রূপ ॥




#কৃষ্ণা_দাস


#রোজনামচা 


 সারাটি দিনের শেষে পড়ে থাকে একটুকরো রোদ।

 সে রোদ গায়ে মেখে মনে মনে শরৎ সেজে ওঠে

 সোনা রোদে সাদা মেঘে অস্হায়ী বিপন্নতাকে ভেলা করে নিয়ে

 দিন যাপনের আটকড়াই ভেজে ভাবে 

 আর কী হল না পাওয়া।  

 পশ্চিমী বাতাসে লেগে থাকে ছৌনাচের ছটফটানি

 দ্রুত খুব দ্রুত কিছু করতে হবে ভাবতে ভাবতে সন্ধে নামে। 

 ধীরে ধীরে কালো হয় চারদিক। 

 বিষণ্নতায় ছেয়ে যায়

 রাত ভর প্যাঁচাদের ডাক। 

 ভোরে পাখি ডাকে

 আরো একটা নতুন দিন সেজে ওঠে না পাওয়ার লিস্ট হাতে নিয়ে।




 

#কৌশিক_বন্দ্যোপাধ্যায়


#বাসাবাড়ি


নিবিড় যাপনে বাঁশি বাজে

প্রমত্ত দরিয়ায় মেঘাচ্ছন্ন মন

অস্ফুট আবর্তে বয়ে যায়

ঝড়-জল রোদ ও বৃষ্টির ভেতর

গড়ে ওঠে এক বাসাবাড়ি ।

যেন এক মন্ত্রশক্তি

জটিল অন্ধকার নগ্নতা ছড়ায়

ঝিমধরা প্রলয় মুহূর্তে নেশা নেশা চোখে

পৃথিবী জেগে ওঠে পুনর্বার ।

নদী মাঠ সোনালী খেত জুড়ে

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে শুধু মুগ্ধতা ...




    

#কাজল_চক্রবর্তী


#আপন_বাটের_পথে


একটু নিরিবিলি হওয়ার জো নেই

একটুও আধো-আঁধার হওয়ার জো নেই

আসতেই হবে তোমাকে?

তোমার কি অন্য কোনো কাজ নেই?


তোমাকে ত ডাকিনা আমি,

ভাবিওনা তোমার কথা,

অথচ,এই সায়ংকালে, ক্লান্ত শরীরটাকে

আরাম কেদাড়ায় এলিয়ে দিয়ে

নিজেকে নিজের মতো করে যখনই পেতে চাই

ঠিক তখন ই তুমি নিঃশব্দে এসে

একান্ত ঘনিষ্ট হয়ে,আমার পাসটিতে বসে,

ওষ্ঠে এক চিলতে হাসি মেখে

মনের কো--------ন গভীর কোন থেকে 

কতো কথা,কতো গান,কতো স্মৃতি

একটা একটা করে তুলতে থাকো,

কেন এ দুরমতি?

আমি চাইনা তবুও তুমি----------,?


কোনো অনুযোগ,কোনো কৈফিয়ত

কোনো অভিযোগ তো আমার নেই,

আমি চাইনা,তবুও তুমি------------,?


আমি পালাবার পথ পাইনা,কিছুতেই,

তোমার সঙ্গ যতই ছাড়াতে চাই

ততোই আষ্টে পৃষ্ঠে বাঁধা পরে যাই,

তোমার মায়াবী দৃষ্টি-জালে? 

একি বিষম জ্বালা, 

এই পড়ন্ত বেলায়, পড়েছি আমি 

এ কেমন মোহময় মায়া জালে!  


জানি তুমি অবিচ্ছেদ্য,

সকাল থেকে এখন,এই সায়ংকাল,

যাকিছু পেয়েছি,হারিয়েছি যত যা,

আমার সকল ভালো মন্দ কর্ম,কর্মফল,

ঝুলিতে সঞ্চয় করেছ,বেশ করেছো,

থাকনা সে সব ঝুলি ভর্তি হয়ে,

সবইতো রেখে যেতে হবে এই বেলায়,

ব্যথা,কষ্ট,সুখ অসুখ যত পিছনের

থাকনা সব ঝোলাবদ্ধ হয়ে,

কাজ কি ওদের নাড়া ঘাঁটা করে,?


এখন তো ওই কমলা রঙা পথের দিকে

চক্ষু মুদে চেয়ে,ঘরে ফেরার স্বপ্ন দেখার বেলা,

এখন মোটেই ভালো লাগেনা

অতীত খুঁড়ে,ধুলো মাখার খেলা।

জানি কিছু কনক কনাও আছে,থাক না সে সব।


তুমিতো অবিচ্ছেদ্য,থাকবেই আমার সাথে, 

যাবেও আমারই সাথে,তবে,এইতো ভালো,

থাকো আমায় জাপটে ধরে,চুপটি করে ,

ওই অদূরেই,পরম সুখের,

আপন বাটের পথে।




No comments:

Post a Comment

বিজয়া সম্ভার

 বিজয়া সম্মিলনির কবিতা ও গল্পের প্রথম অংশে আমরা প্রকাশ করলাম নিম্নলিখিত লেখকদের লেখা। রাণু ভট্টাচার্য শতদ্রু মজুমদার স্বাগতা ভট্টাচার্য  পূর...