#শারদীয়া_কিন্নর_দল
#দ্বিতীয়_পর্ব
কবিতার পাতা ২
#অষ্টম_পাতা
আজ পাঁচজন কবির কবিতা প্রকাশিত হলো। আনন্দময়ীর আগমনকাল এগিয়ে আসছে। কবিতায় শুদ্ধ হোক চিত্ত।
#এত_যে_শূন্যতা
#উৎপল_ত্রিবেদী
(ট্রিওলেট)
গহনে বিপরীত দহনে মরা শ্বাস
অসাড় পড়ে থাকে গোপন অভিলাষ
তুমিতো চলে গেছ যেদিকে বিশ্বাস
গহনে বিপরীত দহনে মরাশ্বাস
একলা নদী জানে তোমার পরবাস।
তোমার পরবাস ডাকেনি কাউকেই
গহনে বিপরীত দহনে মরাশ্বাস
অসাড় পড়ে থাকে গোপন অভিলাষ
গোপনে ছিল সব নিভৃত অবকাশ
সকলে ভাবে তবু তুমি তো দূরভাষ
এতো যে শূণ্যতা এতো যে দূরাকাশ!
#মিনু_মারা_গেছে
#স্বপন_নাগ
মিনু মারা গেছে
মিনু অবনের বৌ
টেলিফোনে জানালো সায়ন।
#
'চিকিৎসার সুযোগও দেয়নি
দু'দিনের জ্বরেই সব শেষ --'
টেলিফোনের ওপারে
সায়নের রুদ্ধ কন্ঠস্বর।
#
ওপার !
টেলিফোনের এপার আর ওপার
ওপারে সায়ন, আমি এপারে।
#
কোন্ পারে এখন মিনু ?
#
মিনু অবনের বৌ
মিনু আমার কেউ নয়
তবু একদিন
মুঠোর পাঁচ আঙুলের
একটি আঙুল ছিল সে !
#
আমাদের মুঠো
ক্রমশই শিথিল হয়ে আসছে।
#তৃষ্ণার্ত_ক্যানভাস
#চন্দ্রশেখর_ঘোষ
অবজ্ঞার আল্পনা এঁকে চলে গেছো
সন্ধ্যা-প্রদীপহীন খোলা দরজায়
স্তব্ধতার ঝরাপাতা ওড়ে
আমার শব্দহীন নদীতে
ধূ ধূ বালুচর , কাঁটাঝোপ
বালি খুঁড়তে খুঁড়তে হয়তো
গভীরে পাওয়া যাবে জল
সে জল স্বচ্ছ , পানযোগ্য
তৃষ্ণা মেটাতে যদি ভুল করে আসো
উড়ে আসা ক্লান্ত পাখির মতো
চঞ্চুতে ফোঁটা ফোঁটা ফেলে দেবো
বুকের তুলিতে জলরঙে
এঁকে নেবো এই তৃষ্ণার্ত ক্যানভাস
#সাড়া
#অমর_ঘোষ
ভিতর থেকে সাড়া দিচ্ছে না কেউ
নাম ধরে ডাকছে নাও কেউ
হয়তো শুনতে পাচ্ছি না
কিংবা শোনার অতিরিক্ত কিছু নৈঃশব্দ
অন্ধকারকে ঋদ্ধ করে
একক পাতার নৌকা যাত্রা
বহু প্রাচীন মাত্রাবোধ টান টান হয়ে ওঠে
ইতিহাসের দাঁড়ি কমা মুখস্থ করে হাওয়ার বেড়ে ওঠা ঔদ্ধত্যকে দিয়েছি কফিনে
তবে কেন নাম জেগে থাকে
ফিতেনদীর মত রাস্তা বেয়ে অমল মানুষ
ভিতর থেকে ডাক দেবে কবে---?
#মরুত্যকার_সন্ধানে
#ছন্দিতা_মল্লিক
অবশেষে তুমি এলে..!
শেষ চিঠি পাঠিয়েছি অনেককাল
মোড়ের মাথায় রোজ দাঁড়িয়ে থাকে আমার অশীতিপর বুড়ো বাপ
তারপর ফিরে আসে
ক্ষয়াটে হাঁটু আর কাঠফাটা পিঠ নিয়ে
মায়ের অসংলগ্ন হাত দুটো ছুঁতে
মায়ের চোখের তারায় জোনাকীরা লণ্ঠন জ্বেলে দেয়
আর রাতের শয্যায় গা এলানো অপেক্ষারা
সারারাত হত্যে দিয়ে পড়ে থাকে
ভোরের আলোর দরবারে
ভেবেছিলাম ঠিকানায় ভুল
ভেবেছিলাম ঘর বদলেছ নতুন পথের বাঁকে
ভাবতে ভাবতেই শুকিয়ে গেছে
মজা পুকুরের কালচে সবুজ বুক,
প্রজাপতি বাগান,
একটা দুটো জলভরা মেঘ
আর লতানে কুমড়ো চারার আধমরা নতুন কুশিগুলো।
নির্ঘুম রাতে ততদিনে চিরে আধাআধি
আমাদের বাঁশে বাঁধা পুরোনো টালির চালখানা
আজ এতদিন পরে তুমি এলে
মাচা থেকে বেরিয়ে পড়ে বাবার রংচটা ছাতাখানা
তালি দেওয়া মৌরীগন্ধের নীচে মুখ গুঁজে পড়ে থাকি তিনজন
ভেজা মাটির সুখ গড়ায়
ভাঙা চাল বেয়ে
আমাদের মাটির দাওয়ায়
আমাদের অন্ধগলির বুকে!
❣️❣️

No comments:
Post a Comment