Tuesday, 22 September 2020

শারদীয়া দ্বিতীয় পর্ব ৫

 #শারদীয়া_কিন্নর_দল

🙏


#দ্বিতীয়_পর্ব


#পঞ্চম_পাতা


 

#রম্যরচনা


#কৈকেয়ী_তুমি_না_থাকলে


#কাকলী_দেবনাথ


রামায়ণের এক অন্যতম নারী চরিত্র হল কৈকেয়ী ।ওঁকে বলা হয় এই মহাকাব্যের খল নায়িকা। সত্যি কথা বলতে কি কৈকেয়ী আমার চোখে রামায়ণের প্রধানা নায়িকা ।নিশ্চয়ই ভাবছেন,কৈকেয়ী নায়িকা হলে  সীতা মাতার অবস্থানটা ঠিক কোথায় হবে ? । আরে বাবা ,অর্ধেক রামায়ণ জুড়ে রামের পাশে পাশে ঘুরলেই কি আর নায়িকা হওয়া যায় ? তাকে নায়কের পাশে অমন দুঃখী দুঃখী মুখ করে হাটার সুযোগ কে করে দিল শুনি ? সেই তো রাজমাতা কৈকেয়ী ।


যাই হোক এই  সব কথায় পরে আসব ।তার আগে জেনে নেওয়া যাক কৈকেয়ী আর তার স্বামী  রাজাধিরাজ দশরথ সম্বন্ধে ।এই দশরথ রাজার কতগুলি বউ ছিল জানেন আপনারা ? সাতশ পঞ্চাশ জন । কি তারও বেশি । ভাবুন একবার ।বছরে যদি একটা করেও বিবাহ করতেন তাহলেও সাত ‘শ বছর । আমি বরাবরই অঙ্কে কাঁচা । 


রাজার বয়স ,রানির সংখ্যা কিছুই ঠিকঠাক মেলাতে পারছি না ।তখনকার দিনে নাকি এই সব মহামানবরা বহু বছর বেঁচে থা্কতেন । আপাতত  দশরথের অন্য রানিদের ছেড়ে আমরা একটু কৈকেয়ীর  দিকে দৃষ্টি ফেরাই ।


‘গিরিরাজ নগরেতে কেকয়ের ঘর । ‘

গিরিরাজ মানে এখনকার রাজগীর । এই কেকয় রাজার মেয়েই ছিলেন কৈকেয়ী ।পরমা সুন্দরী।অবশ্য সুন্দরী না হলে কি দশরথ বিয়ে করতেন ? পৃথিবীর সব পুরুষই সুন্দরী মেয়ে পছন্দ করেন ।তারপর তিনি যদি হন রাজপুরুষ তা হলে তো কথাই নেই । আমরা জানি রাক্ষস রাজা রাবণ যার নাকি দশটা মাথা তার রানি মন্দোদরীও ছিলেন অসামান্যা সুন্দরী।যদিও অনেক পন্ডিতের মতে রাবণের মোটেও দশটা মাথা ছিল না ।  একটি মাথাতেই তিনি দশজনের মত বুদ্ধি রাখতেন। 


কৈকেয়ী্কে বিয়ে করে রাজা দশরথ মণি ,মুক্ত ,অশ্ব তো পেলেনই সঙ্গে যৌতুক হিসেবে পেলেন কুব্জা মন্থরাকে ।এটা কিন্তু আমার মতে কেকয় রাজা বেশ একটা ভালো কাজ করেছিলেন ।তাঁর অত সুন্দরী আদরের রাজকন্যেকে সতীনের সঙ্গে সংসার করতে পাঠানোর সময় একটা দাসী দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হয়েছিল ।


সম্বর অসুরকে মারতে গিয়ে রাজা দশরথ জখম হলেন । যেহেতু কৈকেয়ী অস্ত্র-সঞ্জীবনী বিদ্যা জানতেন তাই রাজামশাই তার কাছেই গেলেন।কৈকেয়ী অনেক শ্রুশ্রূষা করে রাজাকে ভালো করে তুললেন । রাজা খুশি হয়ে রানিকে বর দিতে চাইলেন ।আজকালকার স্বামীরা যেমন খুশি হয়ে গিফট দিতে চায় আর কী ! তবে  উনি তো আর যেমন তেমন হেজা পেজা স্বামী ছিলেন না । 


উনি ছিলেন রঘুকুল রাজাধিরাজ । তাই তার গিফটও ছিল সেই রকম । কৈকেয়ী বুদ্ধিমতি ছিলেন এখনকার মেয়েদের মতই । এই আমরা যেমন হাজবেন্ডরা গিফট দিতে চাইলে বলি এখন নয় পুজোর সময় নেব ।সে রকমই কৈকেয়ীও বললেন ,সময় হলে চেয়ে নেবেন । 


আরও একবার,যখন রাজা দশরথের নখের ভিতর  ব্রন হল, তখন দেবগনের চিকিৎসক ধন্বন্তরি (সমুদ্র মন্থনের সময় সমুদ্র থেকে উঠেছিলেন ) বিধান দিলেন- দুটো রাস্তা আছে এই ব্রনর ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়ার ।এক হল,ঘৃনা না করে রাজাকে শামুখের ঝোল খেতে হবে ।আর দ্বিতীয় হল,কেউ যদি রক্ত,পুঁজ ঝরছে ওই নখে চুমু খায় ।


আপনারাই বলুন, রাজা দশরথ ঘেন্নায় শামুখের ঝোল খতে পারলেন না ।অথচ রানি কৈকেয়ী স্বামীর ব্যাথা লাঘবের জন্য ঘেন্না পিত্তি ভুলে ওই নখে চুমু খেলেন । এটা কি কম কথা ?

আর এত সব কিছুর বিনিময়ে তিনি কিন্তু নিজের জন্য কিছু চাইলেন না ।  চাইলেন তার একমাত্র সন্তানের জন্য।মায়ের মন তো চাইবেই ,নিজের ছেলেকে রাজা হিসেবে দেখতে । এটা কি এমন দোষের হল যে ,যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর মানুষ তাকে কুমাতা বলে গালাগাল দিয়ে আসছে ।


আর বাকি রইল রামের চোদ্দ বছরের বনবাস ।অনেকে হয়ত বলবেন,নিজের ছেলেকে রাজা করতে চেয়েছিস খুব ভালো কথা । তা বলে রাম কে বনবাস ! এটা তো ঠিক নয় । অমন  কচি রাজপুত্তুর ,কোনোদিন খালি পায়ে হাটে নি। সোনার পালঙ্ক ছাড়া ঘুমোয় নি ।রাজভোগ ছাড়া খায় নি ।তাকে কি না বনে পাঠাল ! শরীরে মায়া দয়া বলে কিছু নেই ?


আরে মশাই ,একবার ভেবে দেখেছেন কী ? কৈকেয়ী ওই সময় এই সিদ্ধান্তটা না নিলে যুগ যুগ ধরে আমরা অমন অ্যাডভেঞ্চারাস কাহিনী থেকে বঞ্চিত হতাম । রামায়ণে যা কিছু ঘটেছে তার বেশির ভাগটাই তো রাম বনে যাওয়ার পরে হয়েছে ।রাবণ থেকে লবকুশ ।জটায়ু থেকে হনুমান সবার কীর্তিকলাপই তো আমরা সেই চোদ্দ বছরেই দেখতে পাই আর পড়ে রইল সীতা মাইয়ার কাহিনী ।তাকে যে আমরা চিরকালীন দুখিনী নায়িকা হিসেবে মাথায় তুলে রেখেছি সেটাও তো ওই কৈকেয়ী শাশুড়ি মাতার জন্যই । আরে বোম্বেতে কিছুদিনের জন্য নায়িকার পোস্ট দখল করে থাকার জন্য একে ওপরকে খুন করে দিচ্ছে। সেখানে কৈকেয়ী সকলের চোখে নিজে খারাপ হয়ে সীতাকে নায়িকা বানিয়ে দিলেন ।এটা কি কম কিছু ?


তাই সব শেষে এই কথাটাই বলা চলে, কৈকেয়ী , তুমি না থাকলে রামায়ন হত না।


🌹🌹


#রম্যকথা


#সুব্রত_দেব


 পালপাড়া,চন্দন নগর।আবৃত্তি পরিষদের স্রষ্টা, বিখ্যাত বাচিক শিল্পী ও আমার প্রথম আবৃত্তি শিক্ষক

শ্রদ্ধেয় তাপস চট্টোপাধ্যায়।আমাদের সকলের জ্যেঠু।


 সুরসিক এই মানুষটির কথা আজও মনে পড়ে।

একটি দিনের কথা - মাস্টার মশাই বাজারে গেছেন।

 বাজার মানে পালপাড়া রোডের দুপাশে বসা নিত্য

দিনের অস্থায়ী কিছু দোকান। তা মাস্টার মশাইয়ের

খুব ইচ্ছে হল মৌরলা মাছ কিনবেন।বেশ জমিয়ে

ঝাল আর মৌরলা মাছের টক খাওয়া যাবে।


পকেটে সাকুল্যে পঞ্চাশ টাকা।

ছোট ব্যাগ নিয়ে ঘুরছেন।পালপাড়া বর্ধিষ্ণু এলাকা।

তা পাড়ার পঞ্চুর কাছে মৌরলা মাছ দেখে মাস্টার 

মশাই এগিয়ে গেলেন। পঞ্চু মাস্টার মশাইকে দেখতে

পেয়েই হাঁক দিল --মাস্টার মশাই এদিকে আসুন।


--মৌরলা কত করে দিবি।

- মাস্টমশাই আপনার জন্য একেবারে সস্তায় দিয়ে দেব।

-- কত করে ত বল।

--একেবারে জলের দরে ফলের রস,দানা দেখেছেন।

আ-হা! গা দেখেছেন।একেবারে চিকচিক করছে।

-সত্যি,মাছ্গুলো খুব ভালো এনেছিস,তা তোর 

ফলের রসের দাম কত?

--আপনার জন্য চারশ করে দেব।এক কেজি দিয়ে দি

মাশসাই।

--শোন পঞ্চু তুই একটা মৌরলা ওজন কর।

-একটা!

-হ্যাঁ,একটা।আমি তা থেকে জেরক্স করে নেব।

পঞ্চু থ!


আরেকবার একটা আবৃত্তি পাঠের আসরে রবীন্দ্র কবিতা পাঠ করছেন। জনতার দাবি আধুনিক কবিতা চাই।তা উনি শুরু করলেন - কবি শুভ দাশগুপ্তের- 'বলতে নেই' কবিতা। তাতে একটা পংক্তি ছিল -বাংলা সিনেমা বেদের মেয়ে জোছনার পাল্লায় পড়ে সিঁদুর নিও না মুছে বলে আর্তনাদ করছে।


 এই কবিতা শোনার পর সে কী করতালি! 

মঞ্চ থেকে নেমে মাস্টার মশাই (জ্যেঠু) বললেন-

বুঝলে সুব্রত কী দিনকালই পড়ল, লোকে বলছে এখন আর রবীন্দ্র কবিতা নাকি চলছে না, পাবলিক এখন বেদের মেয়ে জোছনা হেভি খাচ্ছে।কবিতাও খাওয়া যায়!


 আমাদের পাশের বাড়ির ছোট জ্যেঠিমা ছিল মজার মানুষ। সব সময় ঢুলতেন। কোনো সময়েই ভালো ঘুম হত না। একদিন রাতের ঘট্না -জ্যেঠামণি কে রুটি, দুধ দিয়েছেন পাতে,তারপর কলা ছাড়াতে গিয়ে ঢুলতে আরম্ভ করলেন,জ্যেঠামণি বললেন -কী হল দাও। জ্যেঠিমা চটকা ভেঙে বললেন -দিই-

-তারপর ঠপ করে শব্দ।

-জ্যাঠামণি বললেন-একী করলে! পাতে তখন কলার খোসা আর কলা গড়াগড়ি খাচ্ছে উঠোনের ধুলোয়।

আরেকবার। রাত প্রায় বারোটা মত হবে। আমরা যে যার মত শুয়ে পড়েছি।হঠাৎ পাশেই হৈ হৈ শব্দ! কী ব্যাপার? না-জ্যেঠিমা খাট থেকে পড়ে গেছে।ছুটলাম

ঐ রাতে।-জ্যেঠিমা তত্ক্ষ্নে চাদরের আচ্ছাদন ছাড়িয়ে মেঝেতে উঠে বসেছেন।-না,খুব একটা লাগে নি।আমি বললাম -কী হল জ্যেঠিমা ,পড়লেন কি ভাবে?

--আর বলিস না।একটা স্বপ্ন দেখছিলাম -আমি আর তোর জ্যেঠামণি  দার্জিলিংয়ে বেড়াতে গেছি, আনন্দে ঘুরছি।হঠাৎ কে একজন আমাকে ধাক্কা মারল,আর আমি পড়তে থাকলাম খাদে --পড়ছি ত পড়ছি,পড়ছি ত পড়ছি -- তারপর তোর জ্যেঠা মণি আমাকে কোলে লুফে নিল।

-বাব্বা! বা! বা!

জ্যাঠামণি বললেল -অনেক হয়েছে এখন সিনেমা ছেড়ে উঠে পড়ো।

 




No comments:

Post a Comment

বিজয়া সম্ভার

 বিজয়া সম্মিলনির কবিতা ও গল্পের প্রথম অংশে আমরা প্রকাশ করলাম নিম্নলিখিত লেখকদের লেখা। রাণু ভট্টাচার্য শতদ্রু মজুমদার স্বাগতা ভট্টাচার্য  পূর...