Tuesday, 22 September 2020

অনুবাদ কবিতার পাতা

 #শারদীয়া_কিন্নর_দল


#সপ্তম_পাতা


আজ আমরা পাঁচটি অনুবাদ কবিতা এনেছি। প্রথম দুটি বিদেশের কবির। পরের তিনটি ভারতবর্ষেরই ভিন রাজ্যের কবির। 

আমাদের সাহিত্য পাঠ বেশির ভাগ সময়েই নিজের ভাষার রচনায় আটকে থাকে। ফলে বহু স্বাদু ও উৎকৃষ্ট রঢনা নাগালে আসেনা। 

আজ দুজন কবি আমাদের হাত ধরে তাই নিয়ে চলেছেন অন্য এক ভুবনে। 


আসুন পড়ি।




#নন্দিনী_সেনগুপ্ত


‘পাউল হাইজে’ র কবিতার অনুবাদ 





#রাতের_কণ্ঠস্বর


একাকী কোয়েল পাখি শূন্য ক্ষেতের মাঝে 

অস্থির পা ঠোকে; আমি দেখি একমনে    

রাত্রির পথ ধরে ফিরে আসি।          

শান্ত ঘণ্টার গম্ভীর ধ্বনি শোনা যায়

উঁচু স্তম্ভের শিখর থেকে।  


উদ্ভ্রান্ত মানুষের বাসনাগুলো মরে যায়

শুকিয়ে যায় মানুষের দগদগে ক্ষত। 

অরণ্যে এক অদ্ভুত শান্তি বিরাজ করে।   

নদী বহে যায় মৃদু কলতানে।


নিঃশব্দ সিক্ত নদীকূলের 

একটা অদ্ভুত বাতাস

রক্তে নেশা ধরাতে চায়।

হারিয়ে যাওয়া প্রেম ডাকে,  

আড়মোড়া ভাঙে সারারাত।        


 

 (‘Stimme der Nacht’ ‘স্টিমে ড্যের নাখ্‌ট’ কবিতা অবলম্বনে লেখা)


 ২




#ঘরে_ফেরার_পথে


অরণ্যের খুব কাছেই একটা বাড়ি আছে,

চারদিকে সুন্দর বাগান।


যাত্রাপথের শেষে ঐ বাড়িটার জন্যই

আমি অপেক্ষা করি।


বাড়িটাকে ঘিরে ফুলেরা হেসে ওঠে,

শোনা যায় পাখিদের কলকাকলি।


রাস্তা থেকে ধাপে ধাপে সিঁড়িগুলো

উঠে গেছে বাড়িটার দরজা অবধি।


ঐ বাড়ি থেকে ফিরে আসার পথে

মনটা ভারি হয়ে যায়।


বাড়িটার মধ্যে একটা ঘর আছে,

সবচেয়ে খোলামেলা, আলোবাতাস খেলে এমন।


শিশুদের কণ্ঠস্বরে, গানে ঘরটা ভরে ওঠে,

প্রতিটি কোণে হাসি, আনন্দ, খেলা, মজা।


ওখানে বিশ্রাম করলে মুছে যায় সারাদিনের ক্লান্তি।

কিন্তু এখন আর ঐ ঘরের দরজাটা খোলা হয়না।


সবার মুখে মুখে মন্ত্রের মত ফিরতো একটা নাম,

যেন সেই নামটার মধ্যে কোনো যাদু আছে।


সেই নামটা যেন সবার মুখের হাসি,

যেন সেই নামটা বসন্ত ঋতুর আরেক নাম।


কিন্তু এখন সবাই কেমন মূক হয়ে গেছে।

যদি কেউ এখন ঐ নামটা বলে,


ঐ উচ্চারণের সঙ্গে আর কোনো হাসি লেগে থাকেনা।


(Auf der Heimfahrt’ ‘আউফ ড্যের হাইমফার্‌ট’ কবিতা অবলম্বনে লেখা)


#কবি_পরিচিতি 


কবি পরিচিতি- 


পাউল হাইজে জন্মেছিলেন ১৮৩০ সালে বার্লিন শহরে। শিশুবেলা থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র পাউল পরবর্তী জীবনে পড়াশুনার জন্য দর্শন বিষয়টিকে বেছে নেন। ইতিহাস এবং বিভিন্ন ভাষায় ব্যুৎপত্তি ছিল তার। মৌলিক গল্প, কবিতা, নাটক, উপন্যাস ছাড়াও বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য অনুবাদের কাজ করেছেন। ১৯১০ সালে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় তাকে। বলা হয়, গ্যোঠে ছাড়া এরকম প্রতিভাবান আর কোনো সাহিত্যিক জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেননি।১৯১৪ সালে মিউনিখে পাউল হাইজের দেহাবসান হয়।




#স্বপন_নাগ


(মূল কবিতা -হূবনাথ পাণ্ডে)

 




#কাহিনী


শোনানোর মত কেউই যখন

বেঁচে থাকবে না,

তখনও, শেষ অব্দি কিন্তু

বেঁচে থাকবে কাহিনী।


বাঁচবে না কাহিনীর চরিত্রেরা,

তাদের সুখ দুঃখ,

তাদের কথা, সংঘর্ষ ...

বেঁচে থাকবে শুধু কাহিনী।


পৃথিবীও বাঁচবে না আর যখন

শোনার মতো কেউই

না-ই থাকুক আশেপাশে,

অন্য কোনো গ্রহে তখন

হয়তো কেউ বলবে --

অনেক বছর আগের কথা

একদা এক পৃথিবী ছিল !





#মাটি


মাটিকে সেভাবেই ছোঁও

যেভাবে সুগন্ধকে ছোঁয় ফুল,

যেভাবে আলো-কে ছোঁয় কিরণ

শীতলতাকে ছোঁয় হাওয়া

আর তারল্যকে জল।


মাটি

এভাবেই ছুঁয়ে থাকে মাটিকে।





#চশমা


সেদিন

গান্ধীজী

চশমা খুলে

ছলছলে চোখ

মুছতে মুছতে বলেছিলেন --

হিন্দু আর মুসলমান

দুটো চোখ আমার !


তার পর থেকে

বেঁচে থাকলো শুধু চশমা।

তার সেই চোখ দুটি

কোথায় যে চলে গেল, জানি না !


#কবি_পরিচিতি


হূবনাথ পান্ডে : ১৯৬৫ সালের ১৩ এপ্রিল বেনারসে জন্মগ্রহণ করেন কবি হূবনাথ পান্ডে। 'কৌয়ে', 'লোয়ার প্যারল', 'মিট্টী', 'অকাল' প্রমুখ তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ। কবি বর্তমানে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি বিভাগে অধ্যাপনা করছেন।




No comments:

Post a Comment

বিজয়া সম্ভার

 বিজয়া সম্মিলনির কবিতা ও গল্পের প্রথম অংশে আমরা প্রকাশ করলাম নিম্নলিখিত লেখকদের লেখা। রাণু ভট্টাচার্য শতদ্রু মজুমদার স্বাগতা ভট্টাচার্য  পূর...