Monday, 19 October 2020

চতুর্থ পর্ব পঞ্চম পাতা

 #শারদীয়া_কিন্নর_দল


#চতুর্থ_পর্ব


#পঞ্চম_পাতা


আজ একটি গল্প ও দুটি নিবন্ধ প্রকাশিত হলো। 

চতুর্থ পর্ব এখানেই শেষ।

বোধন গল্পটি দিয়ে পুজোর মাকে কাঠি পড়ল। 


আগামীকাল থেকে #বিশেষ_কিন্নর। আগামী ছ'দিন আপনাদের কাছে কিন্নর দল আনবে জমকালো সম্ভার। 

🙏


✍️


#বোধন


#সুব্রত_দেব 


-সনু ----

-হ্যাঁ,মা যাই।মা'র ডাকে সনু ছুটে আসে।

- আজকে বৃহস্পতিবার, লক্ষ্মী পুজোর দিন।আজকে আমায় পাঁচ টাকা ত দিলি না।

-ও হো মা! তুমি না--- আচ্ছা প্রতি লক্ষ্মীবারে তোমাকে টাকা দিতে হবে? কী হবে তোমার টাকা দিয়ে, সবই ত এনে দিচ্ছি,কিছু লাগলে বলো।

-- না,থাক।

সনুর এই হয়েছে জ্বালা! এমনিতেই সংসার চালাতে

হিমসিম খাচ্ছে,তায় এর ওর আবদার। গজরাতে

গজরাতে বেরিয়ে যায়।

একটা সময় মা অনেক করেছে সংসারের জন্য।

হাঁস,মুরগি,ছাগল পালন থেকে টিউশন কিছুই বাদ দেয়নি। শুধুমাত্র সংসারের সুরাহার জন্য। বাবার জুট মিল ত বছরে ছমাসের ওপর বন্ধই থাকত। তাও চলছিল,বাবা চলে যাবার পর মা-ই শক্ত হাতে হাল ধরেছিল,তা না হলে---

এসব ভাবতে ভাবতে সন্ধে বেলায় বাড়ি ফেরে সনু।

দেখে, মা পুরোনো ট্রাঙ্ক থেকে কাপড়, পোশাক,জামা সব বার করছে।

-এ কী করছ,সন্ধেবেলায়। 

-সনু ,তোর এই জামাটার কথা মনে আছে?

--হ্যাঁ, কিন্তু এখন এগুলো বার করলে কেন?

-এমনি। এই জামাটা তোর বাবাকে টিউশনের টাকা 

জমিয়ে কিনে দিয়েছিলাম। এখনও কী সুন্দর

রয়েছে!

--তখন কত টিউশন করেছি,আর এখন-- বাবার দেওয়া রংবেরঙের শাড়ি গুলো উল্টে পাল্টে দেখতে দেখতে গভীর শ্বাস ফেলে সনুর মা।


# আর কয়েকদিন বাদেই পুজো। কী যে হবে, মিলও বন্ধ।কোনো রকমে সবজি বেচে দিন চলছে। ছোট মেয়েটার একটা নতুন জামা কিনতে হবে-- এসবই ভাবছিল সনু। সেদিনের মত কাচা বাজার বিক্রি সেরে সনু দুপুরে বাড়ি ফেরে। বাড়িতে ফিরতেই বৌ

মণি বলে -জানো, মা আজ বাসনউলি কে মা-র সব 

পুরোনো কাপড় বেচে দিয়েছে।

-বেচে দিয়েছে?

--তবে আর বলছি কী?

-- তাই নাকি! দাঁড়াও দেখছি।

- মা, কিছু টাকা দাও ত।

-টাকা! আমি কোথায় পাব? মাঝে মাঝে টুকিটাকি

দু একটা টাকা যা দিস তা ত পুজোর এটা সেটা কিনতেই খরচ হয়ে যায়।

ও! তা হলে তোমার কাছে কিছু নেই।

-না।

সনু খুব বিরক্ত হয়ে চলে যায়।

মণি যে বলল - মাকে পুরোনো কাপড় বেচতে দেখেছে,আর ও চাইতেই বলল টাকা নেই!

দেখতে দেখতে পুজো চলে এল। পাড়ার চন্ডীমন্ডপে প্রতিমা এসে গেছে। ছেলের দল কলাবউ স্নান করাতে গেছে। অন্যবার সনু ছেলের দলে থাকে।

এবারে মন ভালো নেই, মিল বন্ধ।

বাচ্চা ছেলে মেয়ের দল নতুন জামা পরে মন্ডপে খেলে বেড়াচ্ছে। ওদের মধ্যে মিনির পরণেই পুরোনো জামা। সনুর বুক টা হু হু করে ওঠে।

ও বাড়ির দিকে ছোটে।-আজ মা-র সাথে হেস্ত নেস্ত করবেই। সেদিন কটা টাকা চাইলাম দিল না- মেয়েটার একটা ভালো জামা কিনবে ভেবেছিল--

বাড়িতে ঢুকতেই মার গলা শুনতে পায় । সনু এদিকে আয় ত।

সনু বিরক্ত হয়ে মার কাছে যায়।

-দিদি ভাইয়ের জন্য এই জামাটা কিনেছি,কেমন

হয়েছে দেখ ত?

-- সনু অবাক হয়ে একবার লাল টুকটুকে ফ্রক টার

দিকে তাকায় আর তাকায় মা-র অমলিন মুখের দিকে।

--কি রে কী দেখছিস অমন করে?তোর জন্যও একটা গেঞ্জি আর বউমার একটা ব্লাউজ আনিয়েছি। দেখ পছন্দ কি না?

মিনি বাড়ি ফিরে জামা পেয়ে ত বেজায় খুশি। ঠিক 

সেই সময় বাড়ির গেটে বাসনউলি ফুলমনির হাঁক শোনা যায় 

--কী গো বুড়ি মা,একবার বাইরে এসে দেখো।

সনু ছুটে বাইরে গিয়ে দেখে ফুলমণির পরণে মা-র

দেওয়া লাল শাড়ি। রুপোলি আলোয় আজ এত বছর বাদেও ঝলমল করছে। 

সনু খেয়াল করে নি কখন যেন মাও এসে দুয়ারে দাঁড়িয়েছে। ঘুরে তাকায় মায়ের দিকে। দূরে চণ্ডীমণ্ডপে ঢাক বাজছে। তাই ত! আজ যে ষষ্ঠী, মায়ের বোধন।


🌹🌹


✍️


#যুদ্ধ_কেন


#অনিন্দিতা_মণ্ডল 


 দুই নায়ক, দুই মনীষী, দুজনেই ইহুদি বলে নাৎসি জার্মানির চোখের বিষ। একজন আলবার্ট আইনস্টাইন অন্যজন সিগমুণ্ড ফ্রয়েড। যুদ্ধের বিভীষিকা আইনস্টাইন তাঁর গবেষণাগারে বসেও উপলব্ধি করেছিলেন। অনুভব করেছিলেন হাজার হাজার মানুষের অত্যাচারিত হওয়ার কষ্ট। সেই নৃশংস ঘটনা তাঁর মানসে এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি শান্তির পক্ষে কথা বলেছেন। 

 ১৯২৭ সালে আইনস্টাইন ও ফ্রয়েডের সাক্ষাৎ হয়। সেই সাক্ষাতকারে তাঁরা কী কথা বলেছিলেন তা জানা যায়না। কিন্তু তারপর থেকে চিঠির আদানপ্রদান চলতে থাকে দুজনের মধ্যে, যে চিঠি ১৯৩৩ সালের আগে প্রকাশিত হয়নি। এখন সেই প্রকাশিত চিঠির সংকলনটি দুষ্প্রাপ্য। ইংরিজি অনুবাদে মাত্র দুহাজার কপি ছাপা হয়েছিল, যা নিঃশেষিত হয়ে যায়। যা পাওয়া যায় তা হল, সেই কথোপকথনের সংক্ষিপ্তসার। 

 দেখতে পাচ্ছি, তেইশ বছরের বড় ফ্রয়েডকে আইনস্টাইন লিখছেন, ফ্রয়েডের বিজ্ঞানচেতনা ও সত্যানুসন্ধানের যে গভীর বোধ তা তাঁকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে। তদানীন্তন যুদ্ধকালীন রাজনৈতিক বিশ্ব আজকের চেয়ে অন্যরকম ছিলোনা। আজ যেমন আমরা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, চরম স্বৈরাচারী ও একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থার শিকার বলে নিজেদের মনে করছি, আজ থেকে একশো বছর আগেও পটভূমির বিশেষ হেরফের হয়নি। বিচলিত তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার রাজা তাই এমন একটি শাস্ত্রশাখাকে জগতের দরবারে স্বীকৃতি দিচ্ছেন যা আমরা এখনও সেভাবে বিশুদ্ধ বিজ্ঞান বলে মানতে পারিনা। অবশ্যই সে আমাদের চিন্তার সঙ্কীর্ণতা। আইনস্টাইন ১৯৩১ সালে ইন্সটিটিউট ফর ইন্টেলেকচুয়াল কোঅপারেশনে আমন্ত্রিত হন। সেখানেই তিনি দ্বিধাহীন ভাষায় ফ্রয়েডের ভাবনাকে সমর্থন করে তাঁকে এই প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রণ করেন। সেই থেকে একটি চিঠির সিরিজ জন্ম নেয়। আমরা হতভাগ্য যে সেটির পূর্ণ রূপ থেকে আমরা বঞ্চিত। 

 কী ছিল আইনস্টাইনের জানার কথা? যিনি পদার্থবিদ্যার পরমতম রূপকে কল্যাণকর মনে করে এসেছেন চিরকাল, চিরকাল অনন্ত জ্ঞানরাশিকেই ঈশ্বর মনে করেছেন, তিনি একজন মনস্তত্ত্ববিদের মনীষাকে কেমন করে ভাবনার বৃত্তে স্থান দিচ্ছেন? তখনই মনে ভাসছে, কী অসহায় বিজ্ঞানী! রাজনীতির ক্ষমতালিপ্সুদের কাছে যিনি অসহায়। তিনি বলছেন, আপনিই জানিয়েছেন, মানুষের মনের দুই বিপরীতধর্মী প্রবৃত্তির কথা। একদিকে যেমন জীবনের প্রতি ভালোবাসা ও কামনা তেমনই অন্যদিকে বিধ্বংসী প্রবৃত্তি। আমরা পৃথিবীর ইতিহাসে দেখেছি মহামানবেরা সর্বকালেই একথা বলেছেন। এই ধ্বংসাত্মক হিংসাত্মক প্রবৃত্তি থেকে মুক্তি পেতে হবে। মনের গভীরে লালন করতে হবে কল্যাণকর বৃত্তি। মানুষকে ভালবাসতে হবে। ঘৃণা নয়। কিন্তু তিনি যত বড় মহাপুরুষই হোন না কেন, তাঁর কথায় জগতের কতটুকু উপকার হয়েছে? এখন আপনার কাছে এই চিরন্তন সমস্যার কি কোনো প্রতিকার আছে? আমি আপনার দ্বারস্থ হয়েছি, কারণ আমি জানি আপনার চিন্তার জগতে কোনো কুয়াশা নেই। সোজা জিনিস আপনি সোজা দেখতে পান। 

 আমরা একবার ফ্রয়েডের উত্তর দেখে নিই। তাঁর যুক্তিতে এসেছে ‘ক্ষমতা’ ও ‘অধিকার’ নামে দুটি শব্দ। ক্ষমতাকে তিনি প্রাথমিক স্তর থেকে, অর্থাৎ পশু যেমন তার দৈহিক বলকে কাজে লাগিয়ে এলাকা দখল করে সেই স্তর থেকে ক্রমে গোষ্ঠী ও শেষে রাষ্ট্র ক্ষমতার ক্রম অভ্যুত্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অধিকার শব্দটি আরও জটিল এক ধারণা। অধিকার বলতে প্রাথমিক স্তরে তিনি ব্যক্তিমানসে যে স্বাধীন ভোগদখলের বৃত্তি থাকে তাকেই বুঝিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী স্তরে যেখানে গোষ্ঠী ও ক্রমে রাষ্ট্র এসে পড়েছে, সেখানে এই ‘অধিকার’ শব্দটি ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই এসেছে সন্ত্রাস। হিংসা ও প্রতিহিংসার মাধ্যমে সেই সন্ত্রাসের পরিপুষ্টি। ক্রমে রাষ্ট্রীয় স্তরে সেই সন্ত্রাস রাষ্ট্রনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

 মানুষের মন থেকে হিংসার বৃত্তি মুছে দেওয়া সহজ নয়। কারণ প্রাথমিক আদিম বৃত্তি এটি, যা দিয়ে সে নিজের খাদ্য আশ্রয়ের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকারকে বলবৎ করেছে। একটু নিজেদের দেশের দিকে তাকাই। ভারতবর্ষ। এই প্রাচীন ভূখণ্ডে দুই সর্বনাশা যুদ্ধ দুটি মহাকাব্যের বিষয়। কালজয়ী দুটি মহাকাব্য থেকে আমরা প্রতিনিয়ত জানতে পারি রাজনীতির কুটিল সব চক্রান্ত, বিধ্বংসী যুদ্ধ এবং অজস্র মানুষের হত্যাকাণ্ড। সেই যুদ্ধকে মান্য ও ন্যায়সঙ্গত করতে রচিত হয়েছে গীতা নামক এক উপদেশাবলী। নিয়তির দোহাই দিয়ে যেখানে মহৎ প্রবৃত্তির মানুষকে যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ নিজেরই ভাই। 

 নিজেদের কামনা চরিতার্থ করতেই তাই আমরা যুদ্ধে যোগ দিই। একেবারেই স্বার্থপর বৃত্তি, যা এইসময় কখনই শুধুমাত্র একক মানুষের অধিকারকে স্থিত করেনা, পরিবর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠকে অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেয়। 

 তাই আইনস্টাইন সেই সব মহামানবের মতো মানবকল্যাণে যুদ্ধ প্রতিহত করার স্বপ্ন দেখলেও এখনও পর্যন্ত তা স্বপ্নই রয়ে গিয়েছে। তাহলে কি আমরা এখনও অন্ধকার থেকে বের হতে পারব না? এখনও পাশবিক বৃত্তির চর্চা থেকে সরবো না? মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র কখনই যুদ্ধ বন্ধ করবেনা, সন্ত্রাসে সে মদত দেবে। বরং মানুষের শুভ বোধ তাকে এক একক বিশ্বে জাগরিত করতে পারে, যেখানে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিষ্প্রয়োজন। যেখানে মানুষের বাসস্থান কোনো অধিকারের কাঁটাতারে ঘেরা নয়। আমাদের সেই বিশ্বের প্রতি অচঞ্চল প্রার্থনা জারি রাখতে হবে। 


তথ্যসুত্রঃ https://en.unesco.org/courier/marzo-1993/why-war-letter-freud-einstein


🌹🌹


✍️


#হে_বরণীয়_পাগলামি


#অমূল্যরঞ্জন_ভট্টাচার্য 


দুই কিশোর গ্রামের সাঁকোর উপর দিয়ে যেতে যেতে একজন অপর জনকে ঠেলে ফেলে দিল । সে-ই আবার আহত বন্ধুকে বাড়ি এনে তার ক্ষত স্থান থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত নির্বিকার হয়ে দেখতে লাগল । 

এই কিশোরটিই আবার এক আহত পাখিকে এনে সেবা শুশ্রূষা করে বাঁচাতে চেষ্টা করেও পারল না। মৃত পাখিটির গায়ে পিঁপড়ে জমেছে । সে পিঁপড়েগুলি খেয়ে নিল । 

নিষ্ঠুরতা, বীভৎসতা , আবেগ হীনতা । কৈশোরেই বোঝা গেল এই ছেলে হবে এক ক্রিমিনাল । 

অথচ আশ্চর্য ! সে হল এক বিখ্যাত চিত্রশিল্পী । 


প্যারিস । 

এক বৃহৎ সংস্থার শোরুম উদবোধন করবেন এক বিখ্যাত চিত্রশিল্পী আজ। 

বিজ্ঞাপনে নাম দেওয়া হয়নি । সংস্থার অনেক অনুরোধেও অনেক ঘুরেও তাঁর কাছ থেকে একটি ছবি পাওয়া গেল না । পেলে বিজ্ঞাপন জোরদার হত । 

যাক, বিশাল দর্শকের ভিড় । কেউ জানেনা কোন শিল্পী উদবোধন করবেন । শোরুমের পর্দা সরে গেল । 

দেখা গেল একটি বড় গামলায় বসে আছেন শিল্পী । 

সম্পূর্ন নগ্ন ।

" আ রিয়াল লাইফ পোট্রেট । "

হাসি, হুল্লোড়ে ফেটে পড়ছে চারদিক । তার নাম হাজার কন্ঠে ~ সালভাদার , সালভাদার .... 


হ্যাঁ, ইনিই হলেন বিখ্যাত স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী সালভাদর দালি (১৯০৪ ~ ১৯৮৯) । যাঁর মানসিক লক্ষ্মণ ছিল ক্রিমিনালের তিনিই হলেন চিত্রশিল্পে সুররিয়ালিজমের অনন্য শিল্পী । যে ধারার প্রভাব সাহিত্যে প্রসারিত হয়েছে। যেমন জীবনানন্দের কবিতায় । 


দালির প্যাশান তাঁর গোঁফ । মুখমন্ডল থেকে বেরিয়ে আসা সরু গোঁফ দুটি যেন ডানা মেলে আছে । তাই তাঁর নাম হয়ে গেল " দ্য মুসটাস আইকন "।


##

আসলে অনেক বিখ্যাত শিল্পী , স্রষ্টার আচরনে বিস্ময়কর বৈপরীত্য দেখা যায় যা আমাদের সাধারন বিশ্লেষণে পাগলামি বলে মনে হয় । আসলে কেউ পাগল নয় । তাঁদের মনোবিশ্লেষন নিয়ে যদিও অনেক চিত্তাকর্ষক লেখা আছে, আমরা এখানে সেগুলি সর্তকভাবে এড়িয়ে যাব। 

সীমিত পরিসরে আমাদের এই কথকতা এমনি কয়েকজনকে নিয়ে যাঁরা নিজস্ব ক্ষেত্রে মহীয়ান , চিরস্মরণীয় । 


##


১) এলবার্ট আইনষ্টাইন (১৮৭৯ ~ ১৯৫৫) এর ড্রাইভার জানাচ্ছেন রাস্তায় একটি মরা ফড়িং দেখে তিনি খেয়ে ফেললেন । পড়ে থাকা সিগারেট টুকরো কুড়িয়ে এনে সেই তামাক পাকিয়ে ধুমপান করতেন । মানুষজন পরিহার করে নির্জনতায় অপার বিস্ময়ে এই বিশ্বসৃষ্টিকে দেখতেন। ভাবতেন তাঁর তত্ত্বের মূল উপাদান " টাইম এন্ড স্পেস " নিয়ে । 

বেহালা বাজাতে বাজাতে চোখ দিয়ে জল পড়ত । 

বস্তুজগত আর কল্পনার সিমফনিতে কোমল হৃদয় চাইত মাধুর্য্যময়ীদের । 

তিনি হয়েছিলেন " লেডিস ম্যান "। 

এক তুতোবোনের সঙ্গে সর্ম্পক গভীর হল । নাম এলসা । এদিকে স্ত্রী মারিক । 

তারপর অনেক টানাপোড়েন , অশান্তি । সে অন্য কাহিনি । 


২) বিটোফেন (১৭৭০ ~১৮২৮) । পুরোনাম লুডভিগ ফান বিটোফেন । বিশ্ব শ্রেষ্ঠ সুরকার ও পিয়ানোবাদক । জার্মানির এই শিল্পীর " সিমফনি ৭ ", " সোনাটা ১৪ র " সুরে বিশ্ব প্লাবিত । ত্রিশ বছর বয়সে থেকে তাঁর শ্রবন শক্তি কমে যায় । 


তা, মানুষ হিসেবে কেমন ছিলেন তিনি ? 

অত্যন্ত নোংরা থাকতেন । পোশাকও ভীষণ নোংরা । 

মাথা গরম আর প্রচন্ড রাগ । মারামারি করতেন বাড়িওয়ালা আত্মীয়পরিজনদের সাথে । কাজের লোকদের যা পেতেন ছুঁড়ে মারতেন । যা হয় । নিঃসঙ্গ হয়ে গেলেন । 

বিস্ময়্কর যে এত বিখ্যাত মানুষটির জীবনে প্রেম আসেনি। চিরকুমার রয়ে গেলেন । 

কি বৈপরীত্য ~ ক্রোধ আর সংগীত । কল্পনার সুর ঝংকার আর প্রেমহীন হৃদয় । অথচ তাঁর সুর সৃষ্টিতে ঘটেছে ধ্রুপদি আর রোমান্টিকতার মেলবন্ধন। 

স্রষ্টা আর তাঁর সৃষ্টিকে কি ভাবে মেলাতে পারি ? 


৩) মাইকেল এঞ্জেলো (১৪৭৫ ~ ১৫৫৪) ইটালির রেনেসাঁর এই চিত্রশিল্পী বিশ্বের প্রথমসারির চারজন চিত্রকরদের অন্যতম। তাঁর আঁকা সবচেয়ে বিখ্যাত ছবি হল " গড ক্রিয়েটেড আদম " সিস্টিন চ্যাপেলের দেওয়ালে অংকিত । 

এই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ছিলেন নিজের ব্যাপারে সম্পূর্ণ অমনোযোগী।

থাকতেন ভীষন নোংরা। স্নান করতেন না। পোশাক পালটাতেন না। জুতো কখনই খুলতেন না। পরে জুতো খুলে দেখা গেল সাপের খোলসের মত পায়ের চামড়া উঠে আসছে । এক ভয়ংকর রোগ ~ অটিজম। 

চলমান জীবন থেকে সম্পূর্ন বিমুখ । নিরলস মনোযোগ শুধু নিজের কাজে । 

সৃষ্টিশীলতা কি জন্ম নেয় বিচ্ছিন্নতা থেকে ? আমরা জানিনা। 


৪) নিকলাস টেসলা (১৮৫৬ ~ ১৯৪৩) ছিলেন এক প্রতিভাবান পদার্থবিদ ও ইঞ্জিনিয়ার । 

এনার ছিল শুচিবাই যাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে অপ্রেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি । এর সাথে আমরা পরিচিত। 

টেসলার ছিল পরিষ্কার রাখার শুচিবাই। কোন কিছু স্পর্শ করতেন না। হয়ত ধূলো জমে আছে । বাড়ির কাজের লোকেরা তটস্ত । 

আরো একটা ব্যাপার আছে টেসলার । সেটা হল যা কিছু করবেন সেটা তিন বা তিনের গুণিতক সংখ্যা হতে হবে । সিনেমা হলে গেলে হলের পুরো সীমানাটি তিনবার ঘুরবেন৷। হোটেলে গেলে তিন প্যাকেট ন্যাপকিন নেবেন যার মধ্যে আঠারোটি ন্যাপকিন আছে । 


এগুলিকে পাগলামি বললেও প্রতিভাবানদের মানায় । তাঁদের সবকিছুই মানায় । কারন তাঁরা রবীন্দ্রনাথের ভাষায় " দশের বাইরে " যে । 


৫) সিগমন্ড ফ্রয়েড (১৮৫৬ ~১৯৩৯) । অষ্ট্রেলিয়ান এই নিউরো বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী আবিষ্কার চেতনার ত্রিস্তরীয় অস্তিত্ব ~ কনশাস, সাব-কনশাস ও আনকনশাস মনোরোগ চিকিৎসায় নূতন দিগন্ত খুলে দেয় । তাঁর স্বপ্ন বিশ্লেষণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। 


তা, ফ্রয়েড সাহেব ছিলেন তামাকুসেবী । চেন স্মোকার। মুখে ক্যানসার । তেত্রিশবার অপারেশান হল । তামাক ছাড়তে গিয়ে হলেন অবসাদ আক্রান্ত৷। এবার ধরলেন কোকেনের নেশা । কি প্রশংসাই না করলেন কোকেনের । এটা তাঁর মতে " ম্যাজিকাল সাবসটেন্স "। 


৬) টমাস এডিসন (১৮৪৭ ~১৯৪৯ ) ছিলেন বহু বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের আবিষ্কারক, যেমন ফোনোগ্রাম, ইলেক্ট্রিক বাল্ব, সিনেমার ক্যামেরা - এরকম প্রায় একশো রকমের যন্ত্র । 

এডিসনের ছিল স্বল্প ঘুম । কাজের ফাঁকে ঝিমুনি আসত, যাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলা হয় পলিফোসিক । 

তিনি হাতে রাখতেন মার্বেল । মেঝেতে প্লেট । চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে পড়লে হাতের মার্বেল প্লেটে পড়ে শব্দ হত , আর তিনি জেগে উঠতেন। 

এরকম স্বল্প ঘুমাতেন লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি যাঁর অন্যতম বিখ্যাত পেন্টিং " দ্য লাষ্ট সাপার " আর বিস্ময়কর "মোনালিসা "। আরও বিস্ময়কর মৃত্যুর আগে লিওনার্দো র শেষ কথা ~ মোনালিসা মোটেই উচ্চস্তরের কাজ নয় । 

মহান স্রষ্টারা চির অতৃপ্ত ।


🌹🌹

No comments:

Post a Comment

বিজয়া সম্ভার

 বিজয়া সম্মিলনির কবিতা ও গল্পের প্রথম অংশে আমরা প্রকাশ করলাম নিম্নলিখিত লেখকদের লেখা। রাণু ভট্টাচার্য শতদ্রু মজুমদার স্বাগতা ভট্টাচার্য  পূর...